বর্তমানে কোনো জায়গার ঠিকানা খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে কাউকে নিজের অবস্থান জানানো—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় গুগল ম্যাপস। বিশেষ করে নতুন কোনো জায়গায় যাতায়াত, কুরিয়ার বা ডেলিভারি নেওয়া কিংবা পরিচিতদের বাড়ির ঠিকানা জানানোর ক্ষেত্রে গুগল ম্যাপ বেশ কার্যকর। চাইলে নিজের বাড়ি বা নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা গুগল ম্যাপে সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
গুগল ম্যাপে বাড়ির ঠিকানা যোগ করলে পরবর্তী সময়ে সহজেই সেটি খুঁজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাড়ির অবস্থান অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করাও সহজ হয়। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের স্মার্টফোন থেকেই এই কাজ করা সম্ভব।
গুগল ম্যাপে বাড়ির ঠিকানা যোগ করার পদ্ধতি
প্রথমে স্মার্টফোনে Google Maps অ্যাপটি খুলতে হবে। এরপর নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাপ খোলার পর ম্যাপে নিজের বাড়ির অবস্থান খুঁজে বের করুন। প্রয়োজনে সার্চ বক্সে এলাকার নাম লিখে কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানটি নির্বাচন করা যায়।
বাড়ির সঠিক অবস্থান খুঁজে পাওয়ার পর ম্যাপের ওই জায়গায় কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। এতে সেখানে একটি পিন দেখা যাবে। পিনটি বাড়ির সঠিক অবস্থানে রয়েছে কি না, সেটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ ভুল জায়গায় পিন বসালে পরবর্তী সময়ে ঠিকানা খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে।
এরপর স্ক্রিনে থাকা স্থানটির তথ্যের দিকে যেতে হবে। সেখানে Label বা লেবেল যুক্ত করার অপশন পাওয়া যেতে পারে। সেটিতে চাপ দিয়ে জায়গাটির নাম হিসেবে Home বা বাড়ি লিখে সংরক্ষণ করা যায়। গুগল ম্যাপের সংস্করণ বা ফোনের অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী অপশনের অবস্থান বা নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
‘Home’ ঠিকানা সেট করার নিয়ম
গুগল ম্যাপে নিজের বাড়ির ঠিকানা নিয়মিত ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে Home হিসেবে সেট করা যায়। এজন্য Google Maps অ্যাপে নিজের প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিতে হবে। এরপর Your places বা Saved-সংক্রান্ত অপশনে গিয়ে বাড়ির ঠিকানা যোগ করার সুবিধা খুঁজে নিতে হবে।
সেখানে Home নির্বাচন করে বাড়ির ঠিকানা লিখতে হবে। ঠিকানা লেখার পর গুগল ম্যাপে দেখানো সম্ভাব্য ঠিকানাগুলোর মধ্য থেকে সঠিকটি নির্বাচন করতে হবে। যদি গুগল সঠিক ঠিকানা শনাক্ত করতে না পারে, তাহলে ম্যাপে গিয়ে বাড়ির সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করে নেওয়া যায়।
ঠিকানা সংরক্ষণ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে গুগল ম্যাপে শুধু Home লিখে সার্চ করলেই নিজের বাড়ির অবস্থান পাওয়া যাবে। একইভাবে বাড়ি থেকে অফিস, বাজার বা অন্য কোনো স্থানে যাওয়ার দিকনির্দেশনাও সহজে পাওয়া যাবে।
ম্যাপে বাড়ির সঠিক অবস্থান নির্ধারণ
অনেক সময় রাস্তার নাম বা বাড়ির নম্বর গুগল ম্যাপে সঠিকভাবে দেখানো নাও থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ম্যাপে পিন বসিয়ে বাড়ির অবস্থান নির্দিষ্ট করা সুবিধাজনক। তবে পিন বসানোর সময় আশপাশের রাস্তা, ভবন ও এলাকার অবস্থান মিলিয়ে দেখা উচিত।
বিশেষ করে গ্রামের বাড়ি, নতুন আবাসিক এলাকা কিংবা এমন জায়গায় যেখানে গুগল ম্যাপে বিস্তারিত ঠিকানা নেই, সেখানে পিনের অবস্থান ঠিক করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে কেউ আপনার ঠিকানায় আসতে চাইলে ম্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করে তুলনামূলক সহজে পৌঁছাতে পারবেন।
বাড়ির ঠিকানা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন যেভাবে
গুগল ম্যাপে বাড়ির অবস্থান সংরক্ষণ করার পর সেটি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করাও যায়। এজন্য ম্যাপে নিজের বাড়ির অবস্থান নির্বাচন করে Share অপশনে চাপ দিতে হবে। এরপর যে অ্যাপের মাধ্যমে ঠিকানা পাঠাতে চান, সেটি নির্বাচন করা যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ই-মেইল বা অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ম্যাপের লোকেশন পাঠানো সম্ভব। এতে প্রাপক লিংকে ক্লিক করে গুগল ম্যাপে আপনার দেওয়া অবস্থান দেখতে পারবেন।
তবে বাড়ির অবস্থান শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অপরিচিত ব্যক্তি বা অনির্ভরযোগ্য কারও সঙ্গে নিজের বাসার সুনির্দিষ্ট অবস্থান শেয়ার না করাই ভালো।
ঠিকানা ভুল হলে পরিবর্তন করবেন যেভাবে
কোনো কারণে বাড়ির ঠিকানা বা লোকেশন ভুলভাবে সংরক্ষণ হয়ে গেলে সেটি পরিবর্তন করা যায়। এজন্য Google Maps-এর প্রোফাইল বা Saved/Your places অংশে গিয়ে আগে সংরক্ষণ করা Home ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে। এরপর সম্পাদনার অপশন থেকে নতুন ঠিকানা বা সঠিক অবস্থান নির্বাচন করা যায়।
বাড়ি পরিবর্তন করলে পুরোনো ঠিকানার পরিবর্তে নতুন ঠিকানাটিও একইভাবে আপডেট করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতে Home হিসেবে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করার সময় ভুল জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করার সুবিধা
বাড়ির ঠিকানা গুগল ম্যাপে সংরক্ষণ করে রাখার অন্যতম সুবিধা হলো প্রতিবার ঠিকানা লিখতে হয় না। অফিস, বাজার, বিমানবন্দর বা অন্য কোনো জায়গা থেকে বাড়ি ফেরার সময় শুধু Home নির্বাচন করলেই গুগল ম্যাপ পথ দেখাতে পারে।
এ ছাড়া বন্ধু বা আত্মীয়দের বাড়িতে আসার সময়ও লোকেশন শেয়ার করা যায়। কোনো কুরিয়ার বা ডেলিভারি কর্মীকে বাড়ির অবস্থান বোঝানোর ক্ষেত্রেও ম্যাপের লোকেশন কার্যকর হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, গুগল ম্যাপে কোনো ঠিকানা যোগ করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। নিজের বাড়ির সুনির্দিষ্ট লোকেশন সবার জন্য উন্মুক্ত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার ও শেয়ার করা নিরাপদ।
সবশেষে, গুগল ম্যাপে বাড়ির ঠিকানা যোগ করা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। সঠিক জায়গায় পিন বসিয়ে সেটিকে Home হিসেবে সংরক্ষণ করলেই পরবর্তী সময়ে দ্রুত ব্যবহার করা যায়। আর ঠিকানা পরিবর্তন হলে সেটিও সহজেই আপডেট করা সম্ভব। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পরিচিতদের কাছে নিজের অবস্থান জানানোর ক্ষেত্রে গুগল ম্যাপ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
পড়ুন:ইন্টারনেট ছাড়াই যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ম্যাপ, জেনে নিন ৫ উপায়
ইমি/


