মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নিউজ চ্যানেল সিএনএন ও এমএস নাও এবং সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পলিটিকোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের প্রশাসন সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, অবিলম্বে কার্যকরভাবে আমি ভুয়া খবর প্রচারকারী সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করছি; কারণ তারা প্রতিনিয়ত ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করে চলেছে!’
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে পলিটিকোকে সচল রাখার জন্য মার্কিন সরকার ‘অবৈধ ও হাস্যকরভাবে ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন’ দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা দুর্নীতি বলেই মনে হচ্ছে!’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প প্রশাসন বা যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় কোনো সংবাদমাধ্যমের নিয়মিতভাবে কল্পকাহিনি ও মিথ্যা লেখা বা প্রচার করা উচিত নয়। আরও ভুয়া খবর প্রচারকারী সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হবে।’
‘সত্য সংবাদ’ চান ট্রাম্প
পরে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নেয়ার পর, যেখানে প্রথম সংশোধনীতে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের নিশ্চয়তা রয়েছে, তিনি কীভাবে এই পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেবেন। জবাবে ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর প্রচার করে, আর ভুয়া খবর পড়তে পড়তে বা দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের সাথে আরও অনেকে যুক্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সৎ সাংবাদিকতা থাকা প্রয়োজন। মুক্ত সংবাদপত্রের প্রয়োজন। নিরপেক্ষ ও সৎ সংবাদপত্রের প্রয়োজন।’
তবে তিনি এটাও জানান যে তিনি চান ওই গণমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ প্রচারের মান উন্নত করবে এবং হোয়াইট হাউসে ফিরে আসবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক খবর লেখে; আর তারা এমনটা করে কারণ তারা রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান প্রশাসনকে খাটো করে দেখাতে চায়। অথচ সত্যি বলতে, আমরা চমৎকার কাজ করেছি। পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকান। অর্থনীতির পরিসংখ্যানগুলো দেখুন। বর্তমানে আমাদের দেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ আসছে।’
এমএসএনবিসি (যা আগে এনবিসি-র সাথে যুক্ত একটি বাম-ঘেঁষা চ্যানেল ছিল) এবং পলিটিকো—কোনোটিই ট্রাম্পের এই বিবৃতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকা সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার তাদের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থি।
এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ‘সিএনএন হোয়াইট হাউস বিষয়ক আমাদের দল এবং তাদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে আমাদের রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন তা যদি কার্যকর করা হয়, তবে তা হবে সেই মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর একটি বেআইনি আঘাত।’
সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা
সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নীতির এই পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের কিছু সদস্য।
শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি কেনার জন্য সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
এতদিন সৌদি আরবের এই চেষ্টায় বাধা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কারণ, তাদের মিত্র ইসরায়েলের কাছেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হয়। আর মার্কিন আইন অনুযায়ী ইসরায়েলকে গ্যারান্টি দেওয়া আছে যে, আঞ্চলিক প্রতিবেশীরা যেসব আমেরিকান অস্ত্র পাওয়ার যোগ্য, ইসরায়েল তার চেয়ে সর্বাধুনিক মানের অস্ত্র পাবে।
রিয়াদের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই বা বাধা দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবই মার্কিন অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
পড়ুন : নয়াদিল্লির সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে


