দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক হামে মারা গেছে আরও চারজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন ১০১ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৫২ জন।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৪৭৪ জনের।
এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন।
হামের প্রধান লক্ষণগুলো
হাম আক্রান্ত হলে শুরুতেই শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলো হলো—
তীব্র জ্বর: হাম শুরু হওয়ার পর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে তীব্র জ্বর দেখা দেয়। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
সর্দি ও কাশি: অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং তীব্র শুকনো কাশি হামের প্রাথমিক উপসর্গগুলোর অন্যতম।
চোখের সমস্যা: আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ লাল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া এবং আলোয় তাকালে চোখে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
মুখের ভেতর সাদা দাগ: জ্বর শুরুর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গালের ভেতরের অংশ বা মাড়ির পাশে ছোট ছোট লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে কপলিক স্পট বলা হয়।
লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ: হামের সবচেয়ে প্রধান লক্ষণগুলোর একটি হলো শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত জ্বর হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর কানের পেছন ও মুখমণ্ডলে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে তা ঘাড়, বুক, পিঠ, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: হাম হলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মাংসপেশিতে ব্যথার পাশাপাশি খাবারের প্রতি তীব্র অরুচিও দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সঙ্গে পাতলা পায়খানা বা বমিও হতে পারে।


