“মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা। বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজন করা হচ্ছে এ প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর মাঠে ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে ও অংশ নিতে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
একসময় গ্রাম বাংলার মাঠে নিয়মিত হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, কানামাছি ও লাঠিখেলার মতো নানা ঐতিহ্যবাহী খেলা অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের সঙ্গে এসব খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। এর পরিবর্তে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঠে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানো হলে শিশু-কিশোর ও তরুণরা মোবাইল ও মাদক থেকে দূরে থাকার সুযোগ পাবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ঘটবে। তাই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
খেলায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রা জানান, খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত মাঠ, সরঞ্জাম ও নিয়মিত আয়োজনের অভাবে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে হা-ডু-ডু-সহ দেশীয় খেলাগুলো পরিচিত করতে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান তারা।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত রাখতে কমিটি গঠন করা হবে। পাড়া-মহল্লায় যাতে মাদক সেবন ও বিক্রি না হয়, সেজন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পড়ুন : শেরপুরে মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার


