গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৩৬ জন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৪৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮৮ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৫৬২ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ২৫৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাদ পড়া শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার বিশেষ কর্মসূচি
হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি, তাদের খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পেইনের সময় ৬ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া এবং টিকা নেওয়ার উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।
‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামে বিশেষ এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছর দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।
এদিকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, রোগের নজরদারি বৃদ্ধি এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য সরকার ‘হাম-রুবেলা ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট’ জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হামের টিকা নেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবার আগের হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের তালিকা বা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরই শুধু নির্ভর করছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। একই বয়সী শিশুদের নিয়ে পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা হাম-রুবেলা টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল। ফলে আগের তালিকার বাইরে আরও কিছু শিশু থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে কত শিশু হাম-রুবেলার টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা নির্ধারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে দেখা হবে। এ কাজে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন, হাম-রুবেলা টিকাদান রেজিস্টার, স্থানীয় মাইক্রোপ্ল্যান, আগের ক্যাম্পেইনের তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারির ফলাফল ব্যবহার করা হবে।
বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করবেন। টিকা না পাওয়া শিশুদের তালিকাভুক্ত করে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে আগের তালিকা বা ক্যাম্পেইনের হিসাবের বাইরে থাকা শিশুদেরও শনাক্ত করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য, হাম-রুবেলার টিকা পাওয়ার যোগ্য কোনো শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে। মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
পড়ুন : অপ্রতিমকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো পুলিশ
সা/


