দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর এ পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মোট প্রাণহানি ১৮৪ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগেও ডেঙ্গুতে একজন করে মোট দুইজন মারা গেছেন। অন্যদিকে গত একদিনে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৮৪ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়াও উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ২৯২ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৭, বরিশাল বিভাগে ১৫৪, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২, রংপুর বিভাগে ৬৫ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে ডেঙ্গুতে ৩৬ জন মারা গেছেন। এর পরের মাস আগস্টে ৪৩ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বরের ২০ দিনেই ডেঙ্গুতে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৮৭ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৪ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮, বরিশাল বিভাগে ১৪, রাজশাহী বিভাগে ৮, রংপুর বিভাগে ৪ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ লক্ষণ
তীব্র জ্বর: হঠাৎ খুব বেশি জ্বর (১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত) আসা।
তীব্র ব্যথা: তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, এবং পেশি ও জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা (এজন্য একে “হাড়ভাঙা জ্বর” বা breakbone fever-ও বলা হয়)।
ত্বকে ফুসকুড়ি: জ্বরের ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ: বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং রুচি কমে যাওয়া।
মারাত্মক ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ
জ্বর কমে যাওয়ার পর (সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায়) রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলা হয়। এই লক্ষণগুলো দেখলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে:পেটে তীব্র ব্যথা বা অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি, নাক বা ত্বক ফেটে রক্তপাত হওয়া অথবা বমি ও মলের সাথে রক্ত যাওয়া। শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া। রক্তে প্লাটিলেট (Platelet) দ্রুত কমে যাওয়া এবং তীব্র দুর্বলতা বা ছটফটানি হওয়া।
আক্রান্ত হলে করণীয়
ডেঙ্গু ভাইরাসের সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে সঠিক পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে:
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
তরল খাবার: রক্তচাপ ঠিক রাখতে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন—খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও সুপ খাওয়াতে হবে।
ওষুধের সতর্কতা: জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য কেবলমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন (Aspirin), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথানাশক (NSAID) ওষুধ খাওয়া যাবে না। এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তের সিবিসি (CBC) এবং প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষা করতে হবে।
পড়ুন : হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টিকার বিশেষ কর্মসূচি


