বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হবে প্রযুক্তিনির্ভর এ কারখানা। সেখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত ‘এমইপি অ্যাকসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ বিজয়ী সংবর্ধনা ও উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানায় এমইপি গ্রুপ। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক অংশীদার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নতমানের এবং বৈচিত্র্যময় বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক পণ্যের উৎপাদন বাড়লে দেশের বাজারে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নতুন কারখানাটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন করা হবে।
নতুন কারখানায় লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমইপি গ্রুপের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রকল্প উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান, উদ্ভাবন এবং বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের ফলে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য শিল্পে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, নতুন কারখানাকে কেন্দ্র করে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বাজার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অংশীদারের সহযোগিতাকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার আরও বলেন, এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারখানা এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমইপি গ্রুপের পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এরই মধ্যে অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন কারখানার উৎপাদন শুরু হলে বাজারে এমইপির পণ্যের পরিসর আরও বাড়বে।
এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিশেষ অফার আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়কারীদের মধ্যে ৮০ জন বিজয়ীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৭৮ জনের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি এবং দুজনের হাতে ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়িক অংশীদার ও বিক্রয়কারীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এমইপি গ্রুপের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক মতবিনিময়েরও আয়োজন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
এমইপি গ্রুপের নতুন প্রকল্পকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পণ্যের নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয়ভাবে আরও বেশি বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।
এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে নতুন কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদার উপস্থিত ছিলেন। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য শিল্পে এমইপি গ্রুপের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন:বিপিসির লোকসান ও পাচার ঠেকাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল
ইমি/


