বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে নেত্রকোনায় পুষ্টি কর্মশালা

বিজ্ঞাপন

সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে পুষ্টিসচেতনতার বিকল্প নেই- এই বার্তা সামনে রেখে ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-এর আয়োজনে নেত্রকোনায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বারটানের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ দিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষের পুষ্টির মান উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় তৃণমূল পর্যায়ে পুষ্টিবার্তা পৌঁছে দিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অঞ্চল প্রধান ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় উদ্বোধনী দিনে প্রাণবন্ত বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল সেশন পরিচালনা করা হয়।

প্রথম সেশন: উদ্বোধনের পরপরই মূল প্রবন্ধ ও আলোচনা উপস্থাপন করেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অঞ্চল প্রধান ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহার। তিনি খাদ্য ও পুষ্টির মৌলিক ধারণা, ফলিত পুষ্টির গুরুত্ব, নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন, সঠিক উপায়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ, এবং মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে শাকসবজি ও ফলমূলের সুদূরপ্রসারী ভূমিকা তুলে ধরেন। সেশন শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সুচারু উত্তর দেন।

দ্বিতীয় সেশন: দুপুরের পরের সেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে যুক্ত হন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি প্রাণিজ আমিষের উৎস, বাংলাদেশের সার্বিক পুষ্টি পরিস্থিতি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের পুষ্টিগুণ, ডিমের উপকারিতা এবং বিভিন্ন খাদ্যের বায়োলজিক্যাল ভ্যালু নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। এ ছাড়া নিরাপদ হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের সুনির্দিষ্ট দিকগুলোও তার আলোচনায় উঠে আসে।

জনসচেতনতা তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে এই কর্মশালায় সমাজের বিভিন্ন পেশা ও খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও মহিলা বিষয়ক, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ইমাম, পুরোহিত, এনজিও কর্মী এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরাসহ ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ক্লাস নেবেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এবং বারটানের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন সেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুস্বাস্থ্য মানে কেবল রোগমুক্ত থাকা নয়; এর জন্য শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমানভাবে নজর দিতে হবে। আর এর মূলে রয়েছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত জীবনচার। কর্মশালায় জীবনচক্রে পুষ্টি, বাংলাদেশের বর্তমান পুষ্টি পরিস্থিতি, অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে করণীয়, খাদ্য প্রস্তুতকরণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনসহ বেশ কিছু সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হবে।

পড়ুন : জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন