বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), সৈয়দপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতা উৎসব ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’ নানা প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২০ সেপ্টেম্বর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান- এর মধ্য দিয়ে ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএইউএসটির মাননীয় উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড. মোঃ শামীম রেজা (অবঃ), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাউসার, পিবিজিএম (অবঃ), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, এমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক জনাব মাহমুদুল আদিল, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উদ্বোধনের পর প্রথম দিনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মেকানিক্স অলিম্পিয়াড, যেখানে যন্ত্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট মৌলিক ও প্রয়োগভিত্তিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত রোবো সকার গ্রুপ স্টেজে শিক্ষার্থীদের তৈরি ও পরিচালিত রোবট নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোবটিক্স, নিয়ন্ত্রণ কৌশল, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলগত সমন্বয়ের দক্ষতা প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি ইন্জিনিয়ারিং কুইজে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় এবং নন-ইন্জিনিয়ারিং কুইজে সাধারণ জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও দ্রুত চিন্তাশক্তির পরীক্ষা নেওয়া হয়। দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (সিএডি) কনটেস্ট, যেখানে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারভিত্তিক নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁদের কারিগরি জ্ঞান, নকশা দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন।
কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে রোবো সকার গ্রুপ স্টেজের পরবর্তী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের রোবটের কারিগরি সক্ষমতা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও দলগত সমন্বয় কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় ট্রেজার হান্ট।এতে অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, যুক্তিবোধ, সংকেত বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দলগত সমন্বয় ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার পরীক্ষা হয়। দিনজুড়ে কার্নিভাল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক উদ্দীপনার পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
কার্নিভালের তৃতীয় ও সমাপনী দিনে আয়োজনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় আইডিয়াভার্স-ন্যাশনাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা ও বিভিন্ন সম্ভাবনাময় প্রকল্পের ধারণা পোস্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি প্রজেক্ট উপস্থাপন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ও বাস্তবভিত্তিক কাজ প্রদর্শনের সুযোগ পান। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপনের সক্ষমতাও তুলে ধরা হয়।
সমাপনী দিনে বিভিন্ন ইভেন্ট ও আয়োজন পরিদর্শন করেন বিএইউএসটির মাননীয় উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ইভেন্ট পরিদর্শন করেন ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রুবিনা আক্তার এবং আইপিই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. নুরুল আমিন। তাঁরা কার্নিভালের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রদর্শনী ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রোবো সকার এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় কার্নিভালের শেষ পর্যায়ে। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর রোবটিক্স দক্ষতা, কৌশলগত পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও দলগত সমন্বয়ের প্রতিফলন ঘটে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও সমসাময়িক জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএইউএসটির মাননীয় উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড. মোঃ শামীম রেজা (অবঃ), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাউসার, পিবিজিএম (অবঃ), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক জনাব মাহমুদুল আদিল এবং বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও সফল অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন। বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
কার্নিভালের সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত ওয়েভ ফেস্টিভ্যাল -এ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’-এর আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কার্নিভালের শেষ পর্বে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজনে বিএইউএসটির পাশাপাশি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএউইটি), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ফলে ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল ধারণা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
তিন দিনব্যাপী ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’ শিক্ষার্থীদের মেধা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটানোর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপন, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ কার্নিভাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত কাজ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বিকাশে ভূমিকা রাখে। জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও তারুণ্যের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
পড়ুন : জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত সেমিনারে যে বক্তব্য দিলেন ড. ইউনূস


