বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে থাকার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এবার নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি নিয়েও আশাবাদী হওয়ার মতো বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে কেইনের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ২০২৩ সালে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পার ছেড়ে জার্মান জায়ান্টদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। বায়ার্নে আসার পর থেকেই গোলের পর গোল করে দলটির আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন কেইন। তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের পরিবেশে সন্তুষ্ট থাকার বিষয়টিও নতুন চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কেইনের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় চলতি বছরের আগস্টে। এরপর কয়েক দফা আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমঝোতার দিকে এগিয়েছে। এখন আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেইন নিজেই।
চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কেইন বলেন, ‘আলোচনা ভালো হচ্ছে। আমরা প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তবে কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি। আমি এখানে সুখে আছি। আমার মনে হয়, খুব বেশি সময় লাগবে না—শিগগিরই এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে।’
কেইনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বায়ার্নে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা খুব একটা নেই। বরং চুক্তির কিছু আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত বিষয় নিষ্পত্তি হলেই নতুন চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। যদিও নতুন চুক্তির মেয়াদ, বেতন বা অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বায়ার্নে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন কেইন। মিউনিখের পরিবেশ এবং সেখানে পরিবারের জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি।
দলের কোচ ও সতীর্থদের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও ভালো বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে থেকে নিজের সেরাটা ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি।
ক্লাব পরিবর্তনের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সব খেলোয়াড়ের জন্য সহজ নয়। তবে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর কেইন দ্রুতই দলটির আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও তাকে ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছে।
টটেনহাম থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতা জার্মান ক্লাবটির সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। নিয়মিত গোল করার পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেও তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে।
বায়ার্নের হয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক শিরোপা জিতেছেন কেইন। তার সাফল্যের তালিকায় রয়েছে দুটি বুন্দেসলিগা শিরোপা, একটি জার্মান কাপ এবং দুটি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপ।
বায়ার্নে আসার আগে টটেনহামের হয়ে দীর্ঘ সময় খেললেও বড় দলীয় শিরোপার স্বাদ খুব বেশি পাননি কেইন। ফলে বায়ার্নে এসে দলীয় ট্রফি জয়ের সুযোগ তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তার গোল করার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সের কারণে বায়ার্নও তাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে আগ্রহী। ক্লাবের পক্ষ থেকে একাধিকবার কেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান নির্বাহী ইয়ান-ক্রিস্টিয়ান ড্রেসেন এর আগেও কেইনের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, কেইনের সঙ্গে ক্লাবের বোঝাপড়া ভালো এবং চুক্তি নবায়ন নিয়ে দুই পক্ষই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বায়ার্নের জন্য কেইনের গুরুত্ব শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আক্রমণভাগে তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয়ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতাও তাকে বায়ার্নের ড্রেসিংরুমে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে।
চুক্তির বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত হওয়ায় বায়ার্নের হাতে এখনও সময় রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগেভাগেই নতুন চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইছে ক্লাবটি। এতে কেইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং দলও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতে পারবে।
কেইনের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা এখন আর নেই। কিছু বিষয় চূড়ান্ত করার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে নতুন চুক্তির সুনির্দিষ্ট মেয়াদ কিংবা আর্থিক শর্ত সম্পর্কে দুই পক্ষের কেউই বিস্তারিত জানায়নি।
বায়ার্নে কেইনের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় তার চুক্তি নবায়ন ক্লাবটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। টটেনহাম থেকে বায়ার্নে আসার পর তিনি দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে মিউনিখে পরিবারসহ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার বিষয়টিও তাকে ক্লাবটিতে থাকার বিষয়ে ইতিবাচক রাখছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের পরও বায়ার্নের জার্সিতে কেইনকে দেখা যেতে পারে। ইংল্যান্ড অধিনায়কের নিজের কথাতেও সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন অপেক্ষা শুধু চুক্তির বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।
পড়ুন:পাঁচ বছর পর ফিরলেন ডিকভেলা
ইমি/


