চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জামাল উদ্দিন অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী বলেছেন, তিনি এখনো কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নন। সম্প্রতি কাঞ্চননগরে মাদকবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় তাকে সন্ত্রাসের গডফাদার আখ্যা দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিরোধিতা ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই চেয়ারম্যান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের উলিকবাড়ীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আবুল কাশেম চৌধুরী। কথিত মিডিয়া ট্রায়ালকে পুঁজি করে সমসাময়িক বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার এবং অপপ্রচারের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জামাল উদ্দিন অপহরণ মামলার প্রসঙ্গ তুলে সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, তিনি একটি মামলায় অভিযুক্ত। তবে এখনো সাজাপ্রাপ্ত নন। বিচারাধীন মামলায় আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের জনপ্রতিনিধিত্বের অতীত তুলে ধরে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ১৯৯৭ সালে জনগণের ভোটে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সালিশ-বিচার করেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপ বা আর্থিক প্রলোভনে প্রভাবিত হননি। ২০০৩ সালের নির্বাচনেও সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ফটিকছড়িতে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ তার কাজের মূল্যায়ন করেই তাকে নির্বাচিত করেছিলেন।
ডেভিড ইমন ও মানিকপুরের মোবারকসহ কয়েকজনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে কাশেম চৌধুরী বলেন, এলাকার ছেলে হিসেবে কেউ তাকে সালাম বা সম্মান জানালেই তার অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় না। এসব ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ডেভিড ইমনের গডফাদার আখ্যা দিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। অথচ ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন রিমান্ডে থাকলেও তার নাম গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করেননি বলে দাবি করেন কাশেম চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি কোনো সংঘাত চাই না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। সামনে নির্বাচন হবে, সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী সবাই অংশ নিতে পারবেন। আমার এলাকাবাসী আমাকে চান কি না, তা নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমাণ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার শত শত মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মূল্য বাড়ায়নি সরকার : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত


