রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—টানা তিন মাস চলবে এ অভিযান। উড়ন্ত মশা নিধনের পাশাপাশি এবার লার্ভা ধ্বংসে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়।
তবে লার্ভা নিধনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসাবাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া। বহুতল ভবনসহ অনেক বাড়িতেই মশক কর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সেনাবাহিনীর পোশাক পরা একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকেও একটি বাসায় প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “এই এলাকার কয়েকটি বাড়িতে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা কোনো সাড়া দেয় না। বাড়ির ভেতর থেকেও কেউ বের হয়ে আসে না। সবসময় দায়টা অন্যের ওপর চাপানোর একটা প্রবণতা দেখা যায়। কেউ বলে পাশের বাড়ি বা পাশের ফ্ল্যাট থেকে মশা আসছে, আবার কেউ বলে—‘এটা আমার দায়িত্ব নয়’ বা ‘এটা আমার এরিয়া অব রেসপনসিবিলিটির মধ্যে পড়ে না।’”
সিটি করপোরেশনের দাবি, বাসাবাড়িতে প্রবেশ করতে না পারায় লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম শতভাগ সফল হচ্ছে না। তবে অভিযানে ব্যবহৃত দুটি ওষুধই মানসম্মত ও কার্যকর বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী আরও বলেন, “আমরা যে কর্মসূচি পরিচালনা করছি, এর নাম দিয়েছি ‘১০০ তে ১০০’। প্রতিদিন ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী মাঠে কাজ করছেন। কর্মসূচিটি ১০০ দিন পর্যন্ত চলবে। সরকারের জাতীয় ৯০ দিনের বা তিন মাসের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ১০০টি হটস্পটে কাজ করবেন এবং সেগুলো শতভাগ পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন।”
শুধু মশক নিধন অভিযান নয়, জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে ডিএনসিসি। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নাগরিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সচেতনতামূলক চিঠি।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “প্রতিটি বাসা ও সোসাইটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন, অফিস ও আদালতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রস্তুত করেছি। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে যতই কীটনাশক ছিটানো হোক না কেন, বাসাবাড়ির ভেতরের লার্ভা ধ্বংস করা না গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাসার বলেন, “এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে এ কাজে কমিউনিটি ও সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রত্যেককে নিজের বাড়ি ও বাড়ির আশপাশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই সেখানে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং মশক নিধন কর্মীদের সহযোগিতা করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


