বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান

হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, “গোয়েন্দা নজরদারি এবং বৈদ্যুতিক যুদ্ধ সরঞ্জামের সমন্বয়ে পরিচালিত জটিল এক অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে সাফল্যের সঙ্গে সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সাবমেরিন ড্রোন (ইউইউভি) জব্দ করেছে।”

জব্দ করা ড্রোনটি রেমুস ৬০০ অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালিতে নজরদারির জন্য ড্রোনটি মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল ড্রোনটি। আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা এতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।”

এর আগে চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেও হরমুজ প্রণালি থেকে একটি সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছিল আইআরজিসি।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে চালকহীন মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দ করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামের আরেকটি অত্যানাধুনিক আমেরিকান ইউইউভি ড্রোন একইভাবে আটক করেছিল ইরানি নৌবাহিনী। পরপর দুটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপ্রযুক্তির স্পাই ড্রোন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তীব্র স্নায়যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা এখন চরম উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে জব্দ করা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযানের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়া বা ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করতে যাচ্ছে ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ওই ডুবোযানটি জব্দ করেছিল বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।

ইরানের গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার সময় মার্কিন অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন মোহেব্বি।

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

আইআরজিসির এই মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিশেষ সংকর ধাতু, স্টিলথ প্রযুক্তি, সর্বোচ্চ উড্ডয়ন উচ্চতা ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

মোহেব্বি আইআরজিসি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন ডুবোযানটির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি নৌবাহিনীর হাতে আসা ওই আন্ডারওয়াটার ভেসেলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেটির রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শুরু হবে।’

তিনি আরও জানান, ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়তাকারী বিমান, পরিবহন বিমান, গোয়েন্দা নজরদারি বিমান, ডুবোযান ও চালকবিহীন যান রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশ্লেষকদের ধারণা, জব্দ করা ডুবোযানটি থেকে ইরান বড় কোনো সামরিক সুবিধা নাও পেতে পারে। তবে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর ক্ষেত্রে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান আটক ও জব্দ করা হয়েছে। বাহিনীটির দাবি, একটি ‘জটিল গোয়েন্দা ও অভিযানমূলক কার্যক্রমের’ মাধ্যমে যানটি জব্দ করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যানটিতে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ডুবো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম আটক করা যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন ডুবোযান, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আনম্যানড আন্ডারসি ভেহিকেল গ্রুপ ১’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার, ব্যাস ১ দশমিক ২ মিটার এবং ওজন প্রায় ২ দশমিক ৭ টন। পানির নিচে এটি একটানা ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার গভীরতায় কাজ করতে সক্ষম।

মডুলার ও স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি এই ডুবোযানটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রতলস্থ মাইন বা বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা যখন তীব্র, তখনই ডুবোযান আটকের ঘটনাটি ঘটে। গত এক দশকে ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সামরিক সম্পদ ভূপাতিত বা আটক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল স্টিলথ ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং পারস্য উপসাগরে আটক বিভিন্ন ডুবো-গ্লাইডার ও নৌযান।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অতীতে এসব প্রযুক্তির গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে নিজস্ব চালকবিহীন আকাশ ও নৌ-প্রযুক্তি কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

পড়ুন : জানুয়ারিতেই সংসদে উঠবে সংবিধান সংশোধন বিল, পাস হলেই গণভোট

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন