রাত ১২টার পর রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ ও টানপাড়া এলাকার সব ধরনের দোকানপাট বন্ধের দাবি জানিয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি। সোসাইটির নেতাদের অভিযোগ, এলাকার অধিকাংশ দোকান রাত ১২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু টং দোকান ও নামধারী কিছু খাবারের দোকান গভীর রাত পর্যন্ত, এমনকি সারা রাত খোলা থাকে। এসব দোকানকে ঘিরে রাতভর মাদকসেবীদের আড্ডা ও সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা চলে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ পরিস্থিতিতে রাত ১২টার পর দোকানপাট বন্ধ এবং মাদকের আড্ডা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় খিলক্ষেত থানায় ‘নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি’র নেতাদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে সোসাইটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবিসংবলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
রাত ১২টার পর সব দোকান বন্ধের দাবি
মতবিনিময় সভায় নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, নিকুঞ্জ-২ ও টানপাড়া একটি আবাসিক এলাকা। এখানকার অধিকাংশ দোকানপাট রাত ১২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু টং দোকান ও নামধারী খাবারের দোকান গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখায় সেখানে রাতভর মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা চলে।
তিনি বলেন, “রাত ১২টার পর এসব দোকান খোলা থাকার সুযোগেই গভীর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। একটি আবাসিক এলাকার মানুষ রাতে নিরাপদে ঘুমাবে, সেটিই স্বাভাবিক। তাই রাত ১২টার পর সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।”
জাহিদ ইকবাল বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শুধু মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। যেসব জায়গায় গভীর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
‘আমি নিজে উপস্থিত থেকে দোকান বন্ধ করব’
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ অসোসাইটির দাবিগুলো শোনার পর খিলক্ষেত থানার ওসি মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
ওসি বলেন, “রাত ১২টার পর সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। প্রয়োজনে আমি নিজে উপস্থিত থেকে দোকান বন্ধ করব। কোনো দোকানকে রাতভর মাদকসেবনের আড্ডায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। সবার আগে জনস্বার্থ। মাদক, অপরাধ কিংবা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।”
মাদকসেবীদের আড্ডা ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ওসি বলেন, “কোথায় মাদকের আড্ডা বসে, কারা সেখানে আসে—পুলিশ তা খুঁজে বের করবে। প্রয়োজন হলে রাতেই অভিযান চালানো হবে। মাদকসেবন, মাদক বিক্রি বা মাদকের আসর পরিচালনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাতের টহল ও নজরদারি বাড়বে
ওসি সোহরাব আল হোসাইন জানান, নিকুঞ্জ-২ ও
টানপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, অলিগলি ও চিহ্নিত স্পটগুলোতে রাতের পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আকস্মিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও পুলিশের সঙ্গে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সোসাইটির ছয় দফা দাবি
মতবিনিময় সভায় নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়—
১. রাত ১২টার পর নিকুঞ্জ-২ ও টানপাড়া এলাকার সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখা নিশ্চিত করা।
২. কোনো অজুহাতে রাত ১২টার পর দোকানপাট সারা রাত খোলা রাখার সুযোগ না দেওয়া।
৩. রাত ১২টার পর চিহ্নিত স্থানগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও আকস্মিক তদারকি বাড়ানো।
৪. গভীর রাতে মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর বিশেষ নজরদারি করা।
৫. দোকান বন্ধের নির্দেশনা অমান্যকারী এবং মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিশেষ পুলিশি নজরদারির মাধ্যমে সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সভায় সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান সরকার সৈকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এম আইয়ুব পাপ্পু, মাহফুজুর রহমান, রাইসুল ইসলাম তুহিন, লিটু আহমেদ লিটন ও তাসবির ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সচেতন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জন নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১২টার পর সকল ধরনের দোকান বন্ধ এবং একই সঙ্গে মাদকবিরোধী পুলিশি নজরদারি কার্যকরভাবে শুরু হলে নিকুঞ্জ-২ ও টানপাড়ার রাতের পরিবেশে দৃশ্যমান ও চির প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে।
পড়ুন : সিদ্দিকুর রহমান খান স্মরণে জামতলা জামে মসজিদে দোয়ার আয়োজন


