বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদের মার্কেট, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা এবং রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শোকাহত ও ক্ষুব্ধ নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের বাদে পুটিকা বাজার জামে মসজিদের নির্মাণাধীন মার্কেট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বাদে পুটিকা বাজার জামে মসজিদ কমিটি এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন আঘাতের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

রাতের আঁধারে ধ্বংসযজ্ঞ ও আর্থিক ক্ষতিমসজিদ ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল মসজিদের আয়ের স্থায়ী উৎস তৈরি করা। সেই উদ্দেশ্যেই বাজারের নির্ধারিত জায়গায় মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছিল। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা নির্মাণাধীন সেই স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়।

মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আকস্মিক হামলায় মসজিদের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিতে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আঘাত স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের তীর যাদের দিকেমানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানান, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা আজিজুল ও কালাম মণ্ডল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা বাশার মণ্ডলের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে হামলা চালায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিমানববন্ধনে মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং এটি সমাজের সবার পবিত্র আমানত। এই আমানতের ওপর যারা আঘাত হেনেছে, তারা সমাজের শত্রু। আমরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

বক্তারা অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার দুঃসাহস না দেখায়। ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মসজিদ কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‍‍“মসজিদের জায়গায় মার্কেট করা হচ্ছিল, সেখানকার পিলারের তিন-চারটা স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুটিকা বাজারের সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের একমাত্র চাওয়া- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা হোক এবং অপরাধীরা তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি পাক।

পড়ুন : ১ অক্টোবর ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন