নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালী থেকে তমরদ্দি বাজার হয়ে কাটাখালী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কের এই করুণ দশায় বর্তমানে হাতিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উল্লেখ্য, তমরদ্দি বাজার হাতিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। পাশেই অবস্থিত তমুরদ্দি লঞ্চঘাট, যা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী সরাসরি রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এছাড়া এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক মালামাল ওঠানো ও নামানো (লোড-আনলোড) করা হয়ে থাকে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পণ্য পরিবহন খরচ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অপরদিকে, কাটাখালী এলাকাটি হাতিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফুয়েল স্টেশনের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত কাটাখালী থেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পরিবহন করে হরেন্দ্র কোর্টের পাওয়ার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়, যা দিয়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ চালনা করা হয়। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সময়মতো ফুয়েল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ— দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা না হলে হাতিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে। এ অবস্থায়, হাতিয়ার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জোর দাবি জানাচ্ছেন।
অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, ওছখালী থেকে তমরদ্দি সড়ক মেরামত কাজের স্টিমেট আমরা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঠাবো এবং আগামী এক মাসের মধ্যেই তমরদ্দি থেকে কাটাখালী সড়কের মেরামত কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা রাখছি।
পড়ুন : মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সা/


