প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’র সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারত্ব, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্লাগ অ্যান্ড প্লের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, এআই সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও প্লাগ অ্যান্ড প্লের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সহযোগিতা নথিতে সই করেন।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এক বা একাধিক ‘এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এসব কেন্দ্র গড়ে উঠলে এআই গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং দেশীয় স্টার্টআপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নেটওয়ার্কের সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকের পর প্লাগ অ্যান্ড প্লে বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে থাকা করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন অংশীদারদের কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই আনার একটি সম্ভাব্য পথের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের কর্মশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, হাইটেক পার্ক, শিল্প সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কৌশলগত প্রস্তাবের অন্যতম অংশ হলো বাংলাদেশে একটি ‘টেক সেন্টার’ এবং এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা। এর মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি-দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও এআই, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, ওষুধশিল্প, উন্নত উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং ও প্যাকেজিংয়ের মতো খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্লাগ অ্যান্ড প্লের প্রস্তাবে স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক করপোরেট সম্পৃক্ততা, দক্ষতা উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগ সংগ্রহের বিভিন্ন পথও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্লাগ অ্যান্ড প্লে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটি স্টার্টআপ, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত সংযোগ তৈরিতে কাজ করে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রস্তাবিত ৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থের অঙ্কটি একটি সম্ভাব্য এফডিআই সুযোগের হিসাব। এটি কোনো নিশ্চিত বিনিয়োগের ঘোষণা নয়। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কত অর্থ এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, তা পরবর্তী আলোচনা ও উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে।
পড়ুন:আজ ফেনী যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে দিনভর নানা কর্মসূচি
ইমি/


