কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অতীতের যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কার্ড বিতরণে কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি অনিয়ম করলে শুধু বিভাগীয় শাস্তিই নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সুসং সরকারি কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এরআগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সারাদেশের ন্যায় দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মাঝে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনবান্ধব এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নূরুজ্জামান নুরু, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করা হবে না জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমরা ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। দল, মত, পথের নির্বিশেষে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হবে, সেটা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা এবং নির্দেশনা।”
পূর্বের কার্ডগুলোর ত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা তো আসলে কাজ করতে করতে শিখি। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কিছু অনিয়ম ছিল বা ভুল ছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই ভুলগুলো শুধরিয়ে নতুনভাবে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করা হয়েছে বা চালিত আছে। আশা করছি এই ভুলগুলো হবে না।”
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কায়সার কামাল বলেন, “একটু আগে সংসদ সদস্য (সদরের) একটা চিঠি বের করে দিলেন, সমাজসেবায় একটা অনুদান এসেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এখনও জানেন না।” প্রশাসনকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জনগণের জন্য যে অনুদানগুলো আসে, আপনাদের প্রাথমিক দায়িত্ব স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরকে বলা। ফ্যাসিস্ট রেজিমির দেড় দশকের সাথে নির্বাচিত সরকারের সদস্যদের আপনারা কখনোই মিলাবেন না বা তুলনা করবেন না। বিগত দেড় দশক প্রশাসন আর এই প্রশাসন এক যেন না হয়।”
কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে তার পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “যারা এর ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অর্থাৎ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিব এবং প্রয়োজনে জনগণ ক্রিমিনাল অফেন্সে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে।”
কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিব, অতীতকে ক্ষমা করব, কিন্তু অতীত থেকে শিক্ষা নিব। আর যে কর্মকর্তা, যে শিক্ষক অতীত থেকে শিক্ষা নিবে না, তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে।”
ডেপুটি স্পিকার বলেন, মহৎ এই কার্যক্রম এক নম্বর আসন থেকে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দুই, তিন, চার করে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। নেত্রকোনা-১ আসন থেকে এর যাত্রা শুরু হওয়ায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাবাসী গর্বিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ শে জুলাই ২০২৬ থেকে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উপজেলা কৃষি অফিসের আট জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরাসরি মাঠে কাজ করেছেন। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে বিরিশিরি ইউনিয়নের তিনটি ব্লকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) কাপাসাটিয়া ব্লকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়, যেখানে ১১৭০ জন কৃষকের তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ জন নারী কৃষক (কৃষাণী) এবং ১০৮৫ জন পুরুষ কৃষক রয়েছেন।
কার্ডপ্রাপ্ত কৃষকদের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ি ভূমিহীন (নিজস্ব কৃষি জমি নেই/বর্গাচাষী) ২৩ জন, প্রান্তিক (০১ শতক থেকে ৪৯ শতক) ৩৫৩ জন, ক্ষুদ্র (৫০ শতক থেকে ২.৪৯ একর) ৬৭০ জন, মাঝারি (২.৫০ একরের বেশি) ১১৩ জন ও বড় (২.৫০ একরের বেশি) ১১ জন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী ইউনিয়নগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পড়ুন : জুড়ীতে ৫০ বিঘার খামারে মরল ২০ টন মাছ, বিষ প্রয়োগের অভিযোগ


