নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি শাহরিয়ার মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রকল্পের ভেতরের একটি জমি দখলের উদ্দ্যেশ্যে এই হামলার নেতৃত্ব দেন তিনি। এ ঘটনায় নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার করা মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিউগিনি প্রকল্পের অভ্যন্তরে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নিজস্ব জমি রয়েছে। সেই জমিতে যাতায়াতের পথ নিয়ে নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিরোধপূর্ণ ওই স্থানটি দখল করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়ার মাহমুদ। এরপর গত শনিবার রাতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে তিনি ওই প্রকল্পে অতর্কিত তাণ্ডব চালান। এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয় ‘ব্রাউনফিশ’সহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে জমি ও প্রতিষ্ঠান জবরদখলের অভিযোগ বহু পুরনো। ২০২০ সালে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ‘আল-মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম’ নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালিয়ে দখল করে নিজেকে সভাপতি দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে সময় হেফাজতে ইসলামের নাম ও প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার করা হয়। ওই হামলায় মাদরাসার মুহতামিম ও শিক্ষকবৃন্দসহ প্রায় শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। যা এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া টঙ্গী ময়দানে হামলা সহ আরো একাধিক মামলার আসামি এই শাহরিয়ার মাহমুদ।

শাহরিয়ার মাহমুদ দীর্ঘদিন যাবত চুক্তিতে ভূমিদস্যুতার সাথে যুক্ত থাকা সত্বেও কিভাবে নিজেকে তাবলীগের কর্মী দাবি করেন, এমন অভিযোগের জবাবে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, তিনি মূলত জুবায়েরপন্থীদের একজন সক্রিয় নেতা। ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে জুবায়েরপন্থী আরেক নেতা মাহফুজ হান্নানকে সাথে নিয়ে একই কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মারকাজ দখলে নেওয়ার পেছনের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। তাবলীগে বিভক্তির শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী সংস্থা থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, নিউগিনি প্রকল্পে হামলার মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পড়ুন:তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে : চিফ হুইপ

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন