ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে অভিনব এক প্রতারণার জাল বিস্তারকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ। নেত্রকোনার পূর্বধলা থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে মো. নুরুজ্জামান (৩১) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা (শিশু বক্তা নামে পরিচিতি) মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম মাদানী’র নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মানুষের নিকট থেকে ওয়াজ মাহফিলের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা থানায় দায়েরকৃত মামলার সূত্র ধরে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। মামলার বাদী মো. রফিকুল ইসলাম মাদানী (২১), যিনি পেশায় একজন ধর্মীয় বক্তা এবং নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিরকান্দা গ্রামের মৃত সাহেব আলীর পুত্র।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন পূর্বধলার থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে, এদিন শেষ রাতে (রাত সাড়ে ৩ টায়) পূর্বধলা থানা পুলিশের একটি দল কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি মডেল থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে কটিয়াদি উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের আসামি নুরুজ্জামানের সম্মন্ধী কাউসারের (৮৬) বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট টাচ ফোন এবং বিভিন্ন কোম্পানির ছয়টি সিম কার্ডসহ অভিযুক্ত নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত মো. নুরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা মিলে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা সুকৌশলে আসল ধর্মীয় বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মদানীর নাম, পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে একাধিক ফেইক ফেসবুক আইডি, ইমু আইডি এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলে।
এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিলের তারিখ ও সময় নির্ধারণের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি মোবাইল ফোনের ভিতরে “হাফেজ আয়েশা জান্নাত” নামে ফেক ফেসবুক আইডি খুলে বাদীর ছবি ব্যবহার করে নিজেকে বাদীর শ্যালিকা পরিচয় দিতো নুরুজ্জামান। এরপর ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমু আইডির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে যোগাযোগ করে ওয়াজ মাহফিলের ফরম বিতরণ ও তারিখ চূড়ান্ত করার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই চক্রটি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নুরুজ্জামান তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও যৌতুক নিরোধ আইনসহ পূর্বে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায় থানার ওসি।
পড়ুন : নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু


