দল নেই, প্রতীক নেই, মনোনয়ন নেই – কেবল যোগ্যতার প্রশ্নে উত্তীর্ণ হলেই প্রার্থী হতে পারবেন যে কেউই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না কোনো দলীয় প্রতীক, থাকবে না দলীয় মনোনয়ন। যোগ্যতা থাকলেই যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
কিন্তু রাজনীতির মাঠে আরেকটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে মাথা তুলেছে – এই ‘দলহীন’ নির্বাচনের দরজা দিয়েই কি ফিরে আসতে পারে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির অনেক মুখ? কারণ ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় একটি অংশ ছিটকে গেছে রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে। কেউ দেশ ছেড়েছেন, কেউ আত্মগোপনে, কেউ কারাগারে, কেউ মামলার মুখোমুখি। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতির স্থানীয়রা এখনও ঠিকই আছে নানা ধরনের ফন্দি ফিকির আর ভোল বদল করে।
যদিও স্থানীয় রাজনীতির গল্পটা একটু আলাদা। এখানে নেতা মানেই শুধু মন্ত্রী বা এমপি নন। এখানে নেতা মানে – ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি, ওয়ার্ডের পরিচিত মুখ, বাজারের নিয়ন্ত্রক অথবা বছরের পর বছর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে রাখা সেই রাজনৈতিক চরিত্র, যিনি হয়তো সুযোগ পেতে যাচ্ছেন পুরোনো পরিচয়টাকে একটু ভাঁজ করে পকেটে রেখে ভোটের মাঠে নামার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সিদ্ধান্ত এরই মাধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আশঙ্কা বেশ জোরালোভাবেই প্রকাশ্যে আসছে। অনেকেই সন্দেহ করছেন, স্থানীয় নির্বাচনের ‘স্বতন্ত্র’ দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের অপেক্ষাকৃত কম অভিযুক্ত কিংবা দীর্ঘদিনের পরিচিত অনেক নেতাকর্মী আবারও রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সুযোগ পেতে পারেন।
কেবল আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আশঙ্কাই নয়, প্রশ্ন আরও উঠছে – স্বতন্ত্র মানে কি সত্যিই দল থেকে স্বাধীন? নাকি দলীয় পরিচয়টা শুধু কাগজে স্বাধীন? কারণ, স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এরই মাঝে যোগাযোগ, দৌড়ঝাঁপ আর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন।
স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ তাই এবার শুধু নতুন প্রার্থী বাছাইয়ের জায়গা নয় – এটা হতে পারে পুরোনো রাজনীতির নতুন পরীক্ষাগার। দেখার বিষয়, দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলটির অনুসারিদের স্থানীয় কার্যক্রম কতটা নিষিদ্ধ থাকে!
আর শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা হয়তো এমনই দাঁড়াবে – নৌকা নেই, দল নেই, মনোনয়ন নেই – তবু কি মাঝি ফিরবেন ভোটের ঘাটে? উত্তরটা হয়তো মিলবে স্থানীয় নির্বাচন শেষে ফলাফল দেখার পর।
পড়ুন : গোপনে কতটা সংগঠিত আওয়ামী লীগ?
দেখুন : https://www.youtube.com/watch?v=ZALQZmzWK7k


