বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বড় জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন বদলি খেলোয়াড়ের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ৪-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে ফরাসিরা। দেজিরে দুয়ে, রায়ান চেরকি ও মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে শেষ দিকে পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
সোমবার প্যারিসের স্টেড দ্য ফ্রান্সে নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। বিপরীতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে ফ্রান্সের বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন দদি লুকেবাকিও।
গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। তবে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া মাঠে নামা দলটি প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। উসমান দেম্বেলে, মাগনেস আকিলিউশ, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও এস্তেবান লেপলের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফ্রান্সকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে ফ্রান্স। এক পর্যায়ে একেবারে কাছ থেকে নেওয়া লেপলের একটি নিশ্চিত শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফরাসিদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। মনে হচ্ছিল, ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের মুখে পড়তে যাচ্ছে তারা।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগে বদলি খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর পরই পাল্টে যায় পুরো পরিস্থিতি। কোচ জিনাদিন জিদান একে একে রায়ান চেরকি, মাইকেল ওলিস ও দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামান। তাদের গতিময় ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বেলজিয়ামের রক্ষণে বড় চাপ তৈরি করে।
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে সেই চাপের ফল পায় ফ্রান্স। বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে চমৎকারভাবে কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান দেজিরে দুয়ে। তার গোলেই সমতায় ফেরে ফরাসিরা। গোলের পর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় স্বাগতিকরা।
এর মাত্র চার মিনিট পরেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বাইলাইন থেকে মাইকেল ওলিসের বাড়ানো পাস ঠাণ্ডা মাথায় জালে পাঠান রায়ান চেরকি। ৮১তম মিনিটের এই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি তারা।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান মাইকেল ওলিস। দেজিরে দুয়ের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। এতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বেলজিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও তখন প্রায় শেষ হয়ে যায়।
ইনজুরি সময়ে আবারও দেখা যায় দুয়ে ও ওলিসের অসাধারণ বোঝাপড়া। দেজিরে দুয়ের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওলিস। ফলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ছিল ফ্রান্সের আধিপত্য। প্রায় ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে মোট ২৩টি শট নেয় তারা, যার আটটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে বেলজিয়াম পাঁচটি শট নিলেও মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।
নেশনস লিগে এটি ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ জয়। আসরের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে বড় জয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরল ফরাসিরা। একই সঙ্গে চার ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম এক ম্যাচে একাধিক গোল করল দলটি।
চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ফ্রান্সের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে তারা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই প্রত্যাবর্তন শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং দলের বেঞ্চের শক্তি ও তরুণ খেলোয়াড়দের সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ দিয়েছে।
পড়ুন:শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনে মেসি
ইমি/


