৯৫ বছরের রেকর্ড স্পর্শ করলেন এসপোসিতো

ইতালির ফুটবলে নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান মুখ হিসেবে নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন তরুণ স্ট্রাইকার ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো। তুরস্কের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইতালিয়ান ফুটবলের ৯৫ বছরের পুরোনো এক রেকর্ডে কিংবদন্তি জিউসেপ্পে মেয়াৎসার পাশে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে বোলোগনার রেনাতো দাল’আরা স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামে ইতালি। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে জিয়ানলুকা স্কামাক্কার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এসপোসিতো। মাঠে নামার পর থেকেই আক্রমণভাগে নিজের উপস্থিতির জানান দেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ইতালির তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।

এসপোসিতোর ওই গোল শুধু দলের জয়কেই নিশ্চিত করেনি, তাকে নিয়ে গেছে ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের একটি বিশেষ তালিকায়। এই গোলের মাধ্যমে ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাত গোলের মালিক হলেন তিনি। ইতালির ইতিহাসে কিংবদন্তি জিউসেপ্পে মেয়াৎসার পর এসপোসিতোই দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি ২১ বছর পূর্ণ করার আগেই জাতীয় দলের হয়ে সাতটি গোলের কীর্তি গড়লেন।

ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩১ সালের ২৫ জানুয়ারি মাত্র ২০ বছর ১৫৫ দিন বয়সে ইতালির জার্সিতে নিজের সপ্তম আন্তর্জাতিক গোল করেছিলেন মেয়াৎসা। এরপর দীর্ঘ ৯৫ বছর ধরে সেই রেকর্ডের পাশে আর কোনো ইতালিয়ান ফুটবলারের নাম যোগ হয়নি। অবশেষে তরুণ এসপোসিতোর হাত ধরে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

মাত্র ২১ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে সাত গোল করা নিঃসন্দেহে এসপোসিতোর প্রতিভার বড় প্রমাণ। বিশেষ করে তুরস্কের বিপক্ষে তার গোলটি এসেছে ম্যাচের শেষ দিকে, যখন ইতালি জয় নিশ্চিত করার পথে ছিল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার মাধ্যমে নিজের কার্যকারিতারও প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

ইতালির হয়ে এসপোসিতোর এই উত্থানকে নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইতালিয়ান ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রতিভা তুলে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারায় এসপোসিতোর মতো তরুণ ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলছে।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য এসপোসিতোই ছিলেন না ইতালির একমাত্র আলোচিত খেলোয়াড়। পুরো ম্যাচে দলীয় পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। তিনটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়ায় নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে আজ্জুরিরা। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে এসপোসিতোর গোল তাদের জয়কে আরও নিশ্চিত করে।

এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ-১-এ চার ম্যাচ শেষে ইতালির পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৭। বর্তমানে গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আজ্জুরিরা। শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। ফলে ফ্রান্সের চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ইতালি।

গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে তুরস্ক এখনো কোনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। চার ম্যাচ খেলে চারটিতেই হেরে গ্রুপের তলানিতে অবস্থান করছে তারা।

তুরস্কের বিপক্ষে জয় তাই ইতালির জন্য শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার ম্যাচ ছিল না; বরং তরুণ এসপোসিতোর জন্যও এটি হয়ে থাকল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক রাত। কিংবদন্তি মেয়াৎসার ৯৫ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।

এসপোসিতোর সামনে এখন আরও বড় পথ। জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে ইতালির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ। তুরস্কের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোল এবং মেয়াৎসার রেকর্ডে নিজের নাম যুক্ত করার পর তার প্রতি প্রত্যাশাও যে আরও বেড়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পড়ুন:সৌদির নিরাপত্তায় তুরস্ক-পাকিস্তান, দ্রুত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন