গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণপরিবহনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনা

রাজধানীর গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনা দুঃসহ হয়ে উঠেছে। যেখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে জনস্বার্থ। বিশেষ করে ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো, সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে পুরুষ বসা, ছেঁড়া-ফাটা সিট প্রভৃতি কারণে গণপরিবহন এখন গণভোগান্তির অন্যতম উত্স হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উপর তীব্র যানজট তো রয়েছেই।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাস সার্ভিসের জন্য টিকিট কাউন্টার থাকার কথা থাকলেও বিআরটিসি ছাড়া অন্যদের টিকিট কাউন্টার হাতেগোনা। গাড়ির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। স্টুডেন্ট ভাড়া অর্ধেক হলেও লোকাল বাস ছাড়া তথাকথিত সিটিং সার্ভিসে এ নিয়ম মানা হয় না। অধিকাংশ বাসের সিট ছেঁড়া-ফাটা। ব্যাকলাইট ও ইন্ডিকেটর (সিগন্যাল লাইট) নেই। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। বেশির ভাগ সময় বাসে তিলধারণের ঠাঁই থাকে না। অন্যদিকে ট্যাক্সিক্যাব অপ্রতুল, ভাড়াও অতিরিক্ত। সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলে মিটারবহির্ভূত ভাড়ায়। অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় গন্তব্যে যেতেও চায় না। এ অবস্থায় মানুষের ভোগান্তির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।

৮৮ কিমি সড়ক, যানবাহন চলে ৫ লাখ

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যে কোনো শহরে মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ যান চলাচলের জন্য রাস্তা থাকা আবশ্যক। ঢাকা শহরের মোট আয়তন ৮১৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। এ হিসাবে ২০৪ কিলোমিটার রাস্তার প্রয়োজন হলেও শহরে প্রধান রাস্তার পরিমাণ মাত্র ৮৮ কিলোমিটার। এ পরিমাণ রাস্তায় ৫ লাখ যানবাহন চলাচল করছে। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এই রাস্তায় ২ লাখ ১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করার কথা। সে হিসাবে ঢাকায় রাস্তার তুলনায় প্রায় ৩ লাখ বেশি যানবাহন চলছে।

সোয়া লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি

রাজধানীতে চলাচলকারী অনেক গাড়িরই ফিটনেস নেই। বাইরে থেকে রং দিয়ে চাকচিক্য বাড়ানো হয়। অথচ এগুলোর বেশির ভাগই চলাচলের অনুপযোগী। বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নগরীতে চলাচলরত মিনিবাসগুলো অধিকাংশই মেয়াদ অতিক্রম করেছে। ৬৮ শতাংশেরই দরজা-জানালা ও কাঠামো ভাঙা এবং ৫২ শতাংশের সিট ছেঁড়া ও ভাঙা।

এছাড়া বাস মালিক সমিতির দেয়া তথ্যে জানা যায়, নগরীর বাস চালকদের ৪০ শতাংশেরই চালক হিসেবে বৈধ লাইসেন্স নেই। চালকদের বয়স ন্যূনতম ২০ এবং হেলপারের ১৮ বছর হওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিশোরদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

ভাড়া আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা

গণপরিবহনে ইচ্ছামত আদায় করা হচ্ছে ভাড়া। বিআরটিএ বাসের (চালকসহ ৩১ আসনের বেশি) ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ১ দশমিক ৬০ টাকা এবং মিনিবাসের (চালকসহ সর্বোচ্চ ৩১ আসন) ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। এছাড়া বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া সাত টাকা এবং মিনিবাসের পাঁচ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। অথচ দু’একটি বাস কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগই অতিরিক্তি ভাড়া আদায় করে।

এর উপর সিটিং সার্ভিসের নামে করা হচ্ছে চিটিং। প্রায় প্রতিটি রুটে ‘গেটলক’, ‘সিটিং’ সেবার কথা বলে ভাড়া আদায় করা হলেও কার্যত দেয়া হচ্ছে লোকাল বাসের সেবা। মিরপুর-সদরঘাট, মিরপুর-গুলিস্তান, মিরপুর-আজিমপুর, মিরপুর-গুলশান, মিরপুর-যাত্রাবাড়ী, মিরপুর-মতিঝিল, গুলিস্তান-উত্তরা, গাবতলী-সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী-উত্তরা ও সদরঘাট-চন্দ্রা রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে শুধু গাবতলী-সদরঘাট রুটের ৭ নম্বর বাসে লোকাল ভাড়া আদায় করা হয়। আর বাকি সব বাসে সিটিং সার্ভিসের নামে ভাড়া আদায় করা হলেও সেবা দেয়া হয় লোকালের মতো।

অতিরিক্ত যাত্রী, যেখানে সেখানে ওঠানামা

রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের জন্য কোন টার্মিনাল নেই, স্টপেজগুলোতে যাত্রী ওঠা নামারও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেই। গণপরিবহনগুলোয় ইচ্ছামত যাত্রী ওঠানামা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যাত্রী নেয়ার ক্ষেত্রে চালক-হেলপাররা কোন কিছুরই তোয়াক্কা করে না। এটা নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।

গণপরিবহনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো, গাড়ির আকারের তুলনায় অধিক পরিমাণ সিট রাখা। বিআরটিএ অনুমোদিত সিটের চেয়ে বেশি সিট রাখায় যাত্রীদের বসতে কষ্ট হয়। অনেক ক্ষেত্রে পা গুটিয়ে বসতে হয় যাত্রীদের। তেলচিটচিটে অপরিচ্ছন্ন সিটে বসতে গা ঘিন ঘিন করে। এছাড়া সিট এবং গাড়ির জানালা ও বডি ভাঙা থাকার কারণে যাত্রীদের পরনের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে যায়, শরীরও ক্ষত-বিক্ষত হয়।

এছাড়া প্রতিটি বাসেই নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সিট বরাদ্দের কথা থাকলেও বিআরটিসি ছাড়া অধিকাংশ বাসে এ নিয়ম মানা হয় না। এসব বাসে বসে থাকেন পুরুষ যাত্রীরা। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, নারীদের ফাঁকা সিটে পুরুষ যাত্রী বসে পড়লে উঠানোর মতো পরিস্থিতি থাকে না।

পড়ুন : ধামরাইয়ে ২ হাসপাতাল ও ফিলিং স্টেশনে জরিমানা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন