একসময় ছিল আবেগের বাহন, এখন অবহেলায় ডাকবাক্স

একসময় চিঠিই ছিল দূরের মানুষের কাছে মনের কথা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। হলুদ খামে লেখা থাকত সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতি আর জীবনের নানা গল্প। প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনতেন মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে সেই চিঠি পৌঁছালে মিলত আনন্দ। সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লাল ডাকবাক্সগুলোর অনেকগুলোই পড়ে আছে অবহেলায়, কোথাও কোথাও সেগুলো পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে।

বিজ্ঞাপন

খুলনার সিটি বাইপাস রোডসংলগ্ন একটি ডাকবাক্সের এমন দশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এম রহমান। তাঁর ভাষ্য, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ওই বাক্সের কাছে পোস্টম্যান আসেন না। দীর্ঘদিনের অযত্নে সেটি এখন ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আড়ংঘাটা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার অমল সরদার বাংলানিউজকে বলেন, ক্যানসার হাসপাতালের সামনে থাকা পোস্টবক্সটি মানুষ ব্যবহার করেন না। তাঁর আশঙ্কা, মদ কিংবা গাঁজাসেবীরা যেকোনো সময় বাক্সটি খুলে নিয়ে যেতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা পোস্টমাস্টার রিমন হোসেন রুবেল বলেন, আড়ংঘাটা ক্যানসার হাসপাতালের সামনের ডাকবাক্সটির দুরবস্থার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি বিষয়টি জানতেন না। দায়িত্বে অবহেলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি। কেন ডাকবাক্সটি খোলা হয়নি এবং কীভাবে সেখানে আবর্জনা জমেছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

লাল ডাকবাক্সের নীরবতা

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকবাক্সের প্রয়োজনীয়তাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একসময় পাড়া-মহল্লা, গ্রাম কিংবা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকা এসব বাক্সে চিঠি ও পোস্টকার্ড জমা দিতেন মানুষ। ডাকপিয়ন ঠিকানা অনুসরণ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেগুলো পৌঁছে দিতেন। এখন সেই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪১টি চিঠির বাক্স রয়েছে। তবে আগের মতো এসব বাক্সে চিঠি জমা পড়ে না। ডাকযোগে ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্রের ক্ষেত্রেও ই-মেইলের ব্যবহার বেড়েছে।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকিং এক্সারসাইজ অ্যান্ড এডুকেশন ফর ডিজএ্যাবল্ড সোসাইটির (সিডস) মহাসচিব প্রবীণ শাহ তারিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, একসময় মানুষের জীবনের সঙ্গে চিঠিপত্রের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। ভালোবাসা, প্রেম, আবেগ, হাসি-কান্না কিংবা ক্রোধের মতো অনুভূতি কাগজে লিখে প্রকাশ করা হতো। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকতেন মানুষ—কবে প্রিয়জনের চিঠি আসবে।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট না থাকায় ফ্যাক্স ও ডাক যোগাযোগ ছিল সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০-২৫ বছর আগেও আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও আপনজনেরা দূরদূরান্ত থেকে চিঠি কিংবা ফ্যাক্সের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন, খোঁজখবর নিতেন। এমনকি আর্থিক লেনদেনও হতো ডাকযোগে। প্রযুক্তিনির্ভর নগরজীবনে সেই দিনগুলো এখন স্মৃতির অংশ হয়ে আছে বলে জানান তিনি।

চিঠি কমেছে, তবে সচল কিছু ডাকঘর

দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২১টি জেলা। খুলনায় অবস্থিত এই কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় অনেক ডাকবাক্স দীর্ঘদিন অব্যবহৃত রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সব ডাকঘরের চিত্র এক নয়। সরকারি অফিস, আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমে দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়। এ কারণে কিছু ডাকঘরের কার্যক্রম সচল রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সাইদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, তাঁদের ডাকঘরে মূলত দাপ্তরিক চিঠিপত্র বেশি আসে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাঠাতে পোস্ট অফিস ব্যবহার করেন। পার্সেল আদান-প্রদানের জন্যও অনেকে ডাক বিভাগের সেবা নেন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট অফিসের কার্যক্রম সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যানে ডাকসেবা

পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়, দক্ষিণাঞ্চলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবায় চিঠি, পার্সেল ও অন্যান্য ডাকদ্রব্য গ্রহণ ও বিতরণের পরিসংখ্যানে ওঠানামা দেখা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাধারণ দেশি পত্রের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৩২ হাজার ১৭৭টি, বিদেশি পত্র ৫ হাজার ৮৬৯টি। রেজিস্ট্রি দেশি পত্র ছিল ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬৮টি এবং বিদেশি পত্র ২ হাজার ৮০২টি। এ সময়ে দেশি পার্সেল ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৬টি, বিদেশি পার্সেল ১ হাজার ৩৪৮টি। জিইপি সেবা দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৪টি এবং ইএমএস ২ হাজার ২১২টি।

এর আগের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে সাধারণ দেশি পত্র ছিল ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৯০টি এবং বিদেশি পত্র ৬ হাজার ৬৩২টি। রেজিস্ট্রি দেশি পত্রের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫০টি, বিদেশি পত্র ১ হাজার ৪৪টি। এ ছাড়া দেশি পার্সেল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৮১টি, বিদেশি পার্সেল ১ হাজার ৪৫৫টি, জিইপি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৮৩১টি এবং ইএমএস ১ হাজার ৭০১টি ছিল।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সাধারণ দেশি পত্রের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৩১টি, বিদেশি পত্র ৮ হাজার ৮৯০টি। রেজিস্ট্রি দেশি পত্র ছিল ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৭টি এবং বিদেশি পত্র ১ হাজার ২৮৮টি। দেশি পার্সেল ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৩টি, বিদেশি পার্সেল ১ হাজার ৬৭৪টি। ওই অর্থবছরে জিইপি ছিল ৭ লাখ ২ হাজার ৮৩৮টি এবং ইএমএস ১ হাজার ২৭৮টি।

২০২২-২৩ অর্থবছরে সাধারণ দেশি পত্রের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ২০ হাজার ৩৪০টি এবং বিদেশি পত্র ৬ হাজার ৪২১টি। রেজিস্ট্রি দেশি পত্র ছিল ১৩ লাখ ২১ হাজার ৪৩২টি, বিদেশি পত্র ১ হাজার ৪২৭টি। দেশি পার্সেল ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৪২২টি, বিদেশি পার্সেল ১ হাজার ৫৩২টি। জিইপি ছিল ৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৪১টি এবং ইএমএস ১ হাজার ৬৭০টি।

অন্যদিকে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সাধারণ দেশি পত্র ছিল ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ২২০টি এবং বিদেশি পত্র ৬ হাজার ৭১২টি। রেজিস্ট্রি দেশি পত্র ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৭টি, বিদেশি পত্র ১ হাজার ৬২০টি। দেশি পার্সেল ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৪টি, বিদেশি পার্সেল ১ হাজার ৪৭২টি। জিইপি ছিল ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৩২টি এবং ইএমএস ১ হাজার ৩২০টি।

মানি অর্ডারের ব্যবহার কমছে, বাড়ছে স্পিড পোস্ট

মোবাইল মানি অর্ডার বা ইএমটিএসের ব্যবহার বাড়ছে, নাকি কমছে—এমন প্রশ্নে দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) জুবাইদা গুলশান আরা বাংলানিউজকে বলেন, নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে এবং শুধু পোস্ট অফিস থেকেই এ সেবা ইস্যু ও বিলি করা হয়। এ কারণে মোবাইল মানি অর্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস পুরোপুরি চালু করা গেলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমানে ডাক বিভাগের কোন সেবাটি গ্রাহকেরা বেশি নিচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্পিড পোস্ট এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেবাগুলোর একটি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে মোট ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করেছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে।

স্পিড পোস্টে সাধারণ পণ্যের পাশাপাশি মৌসুমি ফল-সবজি ও হিমায়িত পণ্যও পরিবহন করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদে ও দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুবিধা গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করছে বলে জানান তিনি।

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪১টি লেটার বক্স রয়েছে জানিয়ে জুবাইদা গুলশান আরা বলেন, এগুলো প্রতিদিন খোলা হয় এবং এ কাজে এলাকাভিত্তিক পোস্টম্যান নিয়োজিত রয়েছেন।

যেসব ডাকবাক্সে দীর্ঘদিন চিঠি পড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত জনবহুল এলাকা ও অফিসের আশপাশে ডাকবাক্স স্থাপন করা হয়। ফলে মাসের পর মাস চিঠি পড়ে থাকা বা বাক্স না খোলার মতো পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। ইউনিট কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেন।

তাঁর ভাষ্য, ডাকবাক্সে শুধু সাধারণ চিঠি ফেলা যায়। এসব চিঠির জন্য ট্র্যাকিং সুবিধা নেই। এ কারণে গ্রাহকদের কাছে রেজিস্ট্রি ও জিইপি চিঠির গুরুত্ব বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চলে জনবলসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা জানান, সেখানে প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতি রয়েছে।

চিঠির বদলে পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা

ডাক বিভাগ সাধারণ চিঠি, রেজিস্ট্রি চিঠি, জিইপি, ইএমএস, মানি অর্ডার, পার্সেল, ভিপিপি, ভিপিএল, ডাকটিকিট, ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার, ক্যাশ কার্ড ও স্পিড পোস্টসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র, ডাক জীবনবিমা, সঞ্চয় ব্যাংক, পোস্টাল অর্ডার, প্রাইজবন্ড এবং নন-পোস্টাল টিকিট মুদ্রণ ও বিতরণের মতো এজেন্সি সেবাও রয়েছে।

চিঠির লেনদেন কমলেও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবাকে ঘিরে। একসময় বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের দ্রুত সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিল সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। এখন সেবাটি নতুনভাবে সাজানো, প্রচার বাড়ানো এবং দ্রুত পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের কাছে আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিড পোস্টের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ পণ্যের পাশাপাশি মৌসুমি ফল, সবজি ও হিমায়িত পণ্য পরিবহনের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়, খুলনার তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, আরএমএসই-বিভাগ খুলনা ও খুলনা জিপিও এলাকা থেকে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ হাজার ৭৫৫টি ক্যারেট বা কার্টনে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৯৯ কেজি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ ও স্মৃতির জায়গা প্রযুক্তি পুরোপুরি নিতে না পারলেও যোগাযোগের ধরন বদলে গেছে। ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকবাক্সের গুরুত্ব হারাচ্ছে; অন্যদিকে দ্রুত পণ্য পরিবহনের চাহিদা ডাক বিভাগের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

পড়ুন : বিশ্ব ডিম দিবস আজ: পুষ্টির চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন