দুর্গাপুরে পুলিশের অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক উদ্ধার

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি, চারদিক নিস্তব্ধ। গ্রামের মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই মাদক ও চোরাচালান রোধে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছিল নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৪০ বোতল ‘ফেয়ারডিল’ উদ্ধার করা হয়। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশের রাত্রিকালীন বিশেষ ডিউটি চলছিল। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) রসুল সায়েদী আজাদ। এই অভিযানে তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আরও অংশ নেন এসআই মো. স্বপন মিয়া, এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আব্দুল কাইয়ুম ফকির এবং কনস্টেবল মো. আলমগীর হোসেন বিপ্লব ও মো. সজীব মিয়া।

ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে। সংবাদটি যাচাইয়ের জন্য কালক্ষেপণ না করে এসআই রসুল সায়েদীর নেতৃত্বে দলটি দ্রুত ছুটে যায় মেনকিফান্দা গ্রামে। সেখানে জনৈক ইমান আলীর বসতবাড়ির পূর্বপাশে পুকুরপাড়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে সেখানে মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তাদের নজরে আসে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যাগ দুটি খোলার পর বেরিয়ে আসে মাদকের এই বড় চালানটি। সেখানে পাওয়া যায় ভারতীয় তৈরি আমদানি নিষিদ্ধ ১৪০ বোতল ‘ফেয়ারডিল’।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এসব মাদকের প্রতিটির আনুমানিক মূল্য চার হাজার টাকা করে বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক কারবারিরা রাতের আঁধারে এই চালানটি পাচারের উদ্দেশ্যে এনেছিল, পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে ব্যাগগুলো ফেলে রেখে তারা সটকে পড়ে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা তৈরি করে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ।

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া মাদকের ভয়াবহতা থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পুলিশের এমন নিরলস তৎপরতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সচেতন মহলের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন নিয়মিত ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ অনেকাংশেই কমে আসবে। এতে করে যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ট্রেনের এক টিকেট নকল বানিয়ে ১০ জনের কাছে করতেন বিক্রি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন