বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৩১৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন।
২০২৩ থেকে ২০২৬, টানা চার বছরেই দেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রত্যেক বছরের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এ বছরের মৃত্যুসংখ্যা এখনো ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরো বছরের তুলনায় কম। ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষকেরা টিকা, কীটনাশক-প্রতিরোধী মশা, ভাইরাসের ধরন এবং দ্রুত রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এসব গবেষণায় সম্ভাবনাময় কিছু ফল পাওয়া গেলেও রোগটির বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের বিকল্প নেই।
চার বছর ধরেই লাখের বেশি রোগী
বাংলাদেশে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। পরবর্তী দুই বছরেও আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়ায়।
| বছর | হাসপাতালে ভর্তি | মৃত্যু |
|---|---|---|
| ২০২৩ | ৩,২১,১৭৯ | ১,৭০৫ |
| ২০২৪ | ১,০১,২১৪ | ৫৭৫ |
| ২০২৫ | ১,০২,৮৬১ | ৪১৩ |
| ২০২৬ (১৩ অক্টোবর পর্যন্ত) | ১,০৩,৩৯৬ | ৩১৬ |
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পৃথক বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়েছে। তবে এ তুলনা থেকে বলা যাবে না যে ২০২৬ সালের সংক্রমণ আগের দুই বছরের সম্মিলিত সংক্রমণের চেয়েও বেশি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মোট রোগী ছিলেন ২ লাখ ৪ হাজার ৭৫ জন।
এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিসংখ্যান দিয়ে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা পুরোপুরি বোঝা যায় না। যাঁরা পরীক্ষা করাননি বা হাসপাতালে ভর্তি হননি, তাঁদের সবাই এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নন।
এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা নিয়ে গবেষণায় আশার আলো
ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের লার্নার কলেজ অব মেডিসিন এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ—আইসিডিডিআর,বির সহযোগিতায় ঢাকায় TV005 নামের একটি পরীক্ষামূলক টিকার পরীক্ষা পরিচালিত হয়। The Lancet Infectious Diseases সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৯২ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের টিকা বা প্লাসিবো দেওয়া হয় এবং তাঁদের তিন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণাটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল টিকার নিরাপত্তা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মূল্যায়ন করা।
গবেষণায় দেখা যায়, টিকা নেওয়ার পর অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল। তবে অ্যান্টিবডির মাত্রা সবার ক্ষেত্রে এক ছিল না; আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস এবং বয়সের মতো বিষয়েও পার্থক্য দেখা গেছে। ছোট শিশুদের কয়েকটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডির মাত্রা দীর্ঘ মেয়াদে কমে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়। গবেষণাটি টিকার নিরাপত্তা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছে। কিন্তু এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে টিকাটি বাস্তব পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ বা গুরুতর অসুস্থতা কতটা কমাতে পারে। এ জন্য রোগ প্রতিরোধের কার্যকারিতা নির্ণয়কারী গবেষণা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
কীটনাশক প্রয়োগের পরও বেঁচে থাকছে এডিস মশা
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরেকটি বড় বাধা হলো এডিস মশার কীটনাশক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠা। ঢাকায় পরিচালিত একাধিক গবেষণায় প্রচলিত পাইরেথ্রয়েড-জাতীয় কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে Parasites & Vectors সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২০১৭ সালে সংগ্রহ করা এডিস মশার ডিম থেকে মশা প্রতিপালন করে কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ঢাকার কয়েকটি এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। গবেষণায় পারমেথ্রিনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। ডেল্টামেথ্রিনসহ অন্য কীটনাশকের কার্যকারিতা নমুনার উৎসভেদে ভিন্ন ছিল। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার কিউআইএমআর বার্গহোফার মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক হাসান মোহাম্মদ আল-আমিনের নেতৃত্বে ঢাকার এডিস মশার ওপর আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। ২০২৩ সালে Pest Management Science সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণায় কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পাশাপাশি মশার আচরণ ও বেঁচে থাকার বিষয়টিও দেখা হয়।
গবেষকেরা পরীক্ষাগারে কীটনাশকের সংবেদনশীলতা যাচাইয়ের পাশাপাশি একটি নিয়ন্ত্রিত ফ্রি-ফ্লাইট কক্ষে আধা-মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালান। সেখানে প্রচলিত পাইরেথ্রয়েড-জাতীয় অ্যারোসল প্রয়োগের পর ঢাকার মশার একটি বড় অংশ বেঁচে ছিল; কিছু পরীক্ষায় বেঁচে থাকার হার ছিল সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ। এটি সাধারণ পরীক্ষাগারের বোতল-পরীক্ষার ফল নয়, বরং নির্দিষ্ট পরিবেশে অ্যারোসল প্রয়োগের পর মশার বেঁচে থাকার হার। গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। কোন এলাকায় কোন কীটনাশক কার্যকর, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণপদ্ধতি পরিবর্তন করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।
ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন বদলাচ্ছে
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে: DENV-1, DENV-2, DENV-3 ও DENV-4। একজন ব্যক্তি একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সেরোটাইপে আবার আক্রান্ত হতে পারেন। পরবর্তী সংক্রমণে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে, যদিও প্রত্যেক পুনঃসংক্রমণেই গুরুতর অসুস্থতা হয় না।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ২০২৬ সালে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা ডেঙ্গু রোগীর নমুনায় ভাইরাসের ধরন শনাক্ত করেছে। ১ হাজার ৯৭ জন NS1-পজিটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহের পর ৭১টি নমুনার সেরোটাইপ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬৫টিতে DENV-3 এবং ছয়টিতে DENV-2 শনাক্ত হয়। অর্থাৎ সেরোটাইপ শনাক্ত হওয়া নমুনার ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ছিল DENV-3 এবং ৮ দশমিক ৫ শতাংশে DENV-2।
এই ফলাফলকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ হলো সেরোটাইপ পরীক্ষা করা ৭১টি নমুনার মধ্যে DENV-3-এর অনুপাত; এটি দেশের সব ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে DENV-3 সংক্রমণের হার নয়। নমুনার সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি বোঝার জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। আইইডিসিআরের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় DENV-3 বেশি পাওয়া গেলেও বান্দরবান ও বরগুনায় পরীক্ষিত নমুনাগুলোতে DENV-2 শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ একই সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাইরাসের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
এ কারণে ভাইরাসের সেরোটাইপ নিয়মিত শনাক্ত করা এবং অঞ্চলভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু একটি সেরোটাইপের আধিক্য দেখেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণ নির্ধারণ করা যায় না; রোগীর বয়স, পূর্ববর্তী সংক্রমণ, চিকিৎসা পেতে দেরি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।
২৮টি গবেষণার সমন্বিত বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে ২০২৬ সালে Asian Pacific Journal of Tropical Medicine সাময়িকীতে একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-অ্যানালাইসিস প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২৮টি গবেষণার তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। সন্দেহভাজন ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের সম্মিলিত হার পাওয়া যায় ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
এই সংখ্যার অর্থ, বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত গবেষণাগুলোতে ডেঙ্গু সন্দেহে পরীক্ষা করা রোগীদের মধ্যে সম্মিলিতভাবে প্রায় অর্ধেকের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গবেষণাগুলোর ফলাফলে অত্যন্ত বেশি ভিন্নতা ছিল। তাই স্থান, সময়, পরীক্ষার পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের পার্থক্য বিবেচনা না করে এই সম্মিলিত হারকে দেশের সব অঞ্চলের জন্য একইভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।
রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে ডেঙ্গুর চাপ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, ওই সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় ৭৮ শতাংশ ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে শনাক্ত হয়েছিলেন। অক্টোবরেও রাজধানীর বাইরে রোগী ও মৃত্যুর চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ৬ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসেবার ওপর চাপের কথা উঠে আসে। বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সংক্রমণ বাড়ার কারণ নির্ধারণ করতে স্থানীয় তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা জানিয়েছিলেন। তিনি বিশেষভাবে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
দ্রুত রোগনির্ণয়: সম্ভাবনা আছে, যাচাইও প্রয়োজন
ডেঙ্গু শনাক্ত করার পাশাপাশি ভাইরাসের সেরোটাইপ দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা চলছে। Pulse সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে একটি দ্রুত ইমিউনোক্রোমাটোগ্রাফিক (ICT) পরীক্ষার ফল পিসিআর পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
গবেষণায় NS1-পজিটিভ ৯৮টি নমুনার মধ্যে ৭৩টির ক্ষেত্রে দুই পরীক্ষার ফল মিলেছিল—৬৬টি নমুনায় একই সেরোটাইপ শনাক্ত হয়েছিল এবং সাতটিতে উভয় পরীক্ষার ফল নেগেটিভ ছিল। অন্যদিকে, ১২টি নমুনায় ICT পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলেও পিসিআর নেগেটিভ ছিল; ১৩টি নমুনায় এর বিপরীত ফল পাওয়া যায়। এটি একটি হাসপাতালভিত্তিক, সীমিত নমুনার গবেষণা। তাই দ্রুত পরীক্ষাটি বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহারের আগে আরও রোগী ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এর নির্ভুলতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্বর কমে যাওয়ার পরও গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সিডিসি
জ্বর হলে যা করবেন
• ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রোগের সময়কাল ও উপসর্গ অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করবেন।
• জ্বর বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়। অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
• পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করুন।
• তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অস্থিরতা কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করুন
• সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন।
• ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার ও পানির পাত্রে পানি জমতে দেবেন না।
• পানির ট্যাংক ও সংরক্ষণপাত্র ঢেকে রাখুন।
• দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করুন, শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরুন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন।
গবেষণার ফলকে কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে গবেষণায় টিকা, কীটনাশক-প্রতিরোধী মশা, ভাইরাসের ধরন এবং দ্রুত রোগনির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। তবে পরীক্ষামূলক ফলাফলকে জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে প্রয়োগ করা, রোগের বিস্তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা এখনো জরুরি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। টিকা নিয়ে গবেষণা, কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ, প্রজননস্থল ধ্বংস, দ্রুত রোগনির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা, সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
মোঃ মেহেদী হাসান
গবেষণা সহকারী, টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাষ্ট্র)


