দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড হালনাগাদ: দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন

কৃষি ও কৃষক- আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যিনি মাঠে ফসল ফলান, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো সবার আগে তার দোরগোড়ায় পৌঁছানোই কাম্য। প্রান্তিক কৃষকদের সেই অধিকার আরও সুনিশ্চিত করতে এবং তাদের নির্ভুল তথ্য মূল তথ্যভান্ডারে যুক্ত করার লক্ষ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের সিংহা বাজারে উৎসবমুখর ও আস্থাশীল পরিবেশে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয়েছিল কৃষকের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশের এক মিলনমেলায়। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল বক্তাদের দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা, যেখানে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে, অতীতে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কৃষকদের যে ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হতো, তার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে বিন্যামূল্যে সুফল পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা বরদাশত করা হবে না। এই প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সমাজের সকলকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, কৃষক কার্ডকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অবৈধ লেনদেনের দুঃসাহস না দেখায়। প্রকৃত কৃষকরা যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সেদিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষকের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রায়হানুল হক। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম. রফিকুল, বাকলজোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাত্তার মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার খলিফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাকলজোড়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখানেই থেমে থাকছে না; বরং পর্যায়ক্রমে দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এটি সম্প্রসারিত হবে। প্রতিটি গ্রামের আনাচে-কানাচে থাকা প্রকৃত কৃষকদের তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে কার্ড প্রদান কর্মসূচির পরবর্তী ধাপগুলো নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ’- চিরায়ত এই সত্যকে সামনে রেখে দুর্গাপুর উপজেলায় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সমাজের সর্বস্তরে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে যদি এমন স্বচ্ছতা, কঠোর তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগ বজায় থাকে, তবে কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়াই এই কর্মসূচির শতভাগ সুফল দেশের প্রকৃত কারিগরদের হাতে পৌঁছাবে।

পড়ুন : আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন