সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশগামী বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল/স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এসব যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্ব স্ব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি তারা।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হামলা হয় দাম্মামেও। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নির্ভর করছে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর। ফলে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও অনেক যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ফ্লাইটে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
পড়ুন : ঢাকায় আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস


