মাগুরায় প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের চেঙ্গারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফ এর বিরুদ্ধে স্কুলের ছাত্রীদেরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের ৫-৬ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক এই অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মাগুরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অরুপ বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম, অমিত বিশ্বাস নামে তিন জন অভিভাবক একই ঘটনা উল্লেখ করে আলাদা আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ ওঠা ওই শিক্ষকের বাড়ি চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে এলাকার একাধিক শিক্ষার্থীদের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় সরাস‌রি হাত দেওয়া, শিক্ষার্থীদের দিকে খারাপ নজরে তাকানো সহ যৌন হয়রানি ও নিপিড়ন করে আসছে। এবিষয়ে স্কুল কমিটিকে একাধিক বার অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার একাধিক শিক্ষার্থী এসব ঘটনায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৫-৬ জন শিক্ষার্থীর সাথে এমন আচরণ করেছে ওই শিক্ষক। এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যে সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এঘটনায় অভিযোগকারী ব্যাক্তিরা বলেন, প্রথমে তারা এক মাস আগে স্কুল পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এক মাস পার হলেও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কালক্ষেপণ করছে কমিটি। পরে তারা সংশিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

ওই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এক মাসেও তদন্ত রিপোর্ট কেনো জমা দেওয়া হয়নি? এবিষয়ে প্রশ্ন করলে সভাপতি কোনো সদ্দুত্তোর দিতে পারেননি।

মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম জানান, এঘটনায় চলতি মাসের ৮ তারিখে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুতই তদন্ত করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে। এটিও মৌখিকভাবে কোনো শিক্ষককে সংযুক্তি দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটিও এটি করতে পারেন না।

জেলা শিক্ষা অফিসার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারও একই কথা জানান এই প্রতিবেদকে। বলা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে তাদেরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ জানান, ওই সকল শিশুদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। শিশুরা সব কথা বলেছে। তদন্তের পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এটিও ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার পরে মৌখিকভাবে ওই শিক্ষককে পাশের একটি স্কুলে সংযুক্ত করা হয়েছে। এভাবে মৌখিকভাবে সংযুক্ত করা যায় কিনা? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে করা হয়েছে।

ওই শিক্ষক মো. আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

এদিকে এঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার পর আরিফের লোকজন বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক অভিভাবককে হুমকি দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এঘটনায় গাফিলতি না করে বরং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার সহ এলাকার সচেতন মহল। নইলে শিক্ষার্থীদের ওই স্কুলে আর পাঠাবেননা বলেও জানান অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ব্যাংকে রহস্যজনক আগুন, ২ মোটরসাইকেলসহ পুড়ল নথিপত্র

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন