আধুনিক বাংলা সুরের রূপকার: শুভ জন্মদিন হাবিব ওয়াহিদ

বাংলা আধুনিক ও ফিউশন সঙ্গীতের গতিপথ বদলে দেওয়া সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক হাবিব ওয়াহিদের জন্ম দিন। ১৯৭৯ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এই সঙ্গীতের বরপুত্র। আজ ৪৪ বছর পূর্ণ করে ৪৫ বছরে পদার্পণ করলেন সুর ও ছন্দের মেলবন্ধনে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া এই তারকা।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীতায়োজনের সঙ্গে দেশীয় লোকসঙ্গীত ও আধুনিক সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা গানকে নতুন এক যুগে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তার সুরের মূর্ছনা এবং কণ্ঠের জাদু দুই দশক ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে বাংলা ভাষার শ্রোতাদের।

সঙ্গীতের আবহে বড় হওয়া:

হাবিব ওয়াহিদের রগে রগে বইছে সঙ্গীত। তার বাবা পপ ও লোকসঙ্গীতের প্রখ্যাত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। ছোটবেলা থেকেই ঘরে সঙ্গীতের পরিবেশ দেখে বড় হলেও হাবিব নিজের আলাদা একটি পথ ও শৈলী তৈরি করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের স্কুল অব অডিও ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও মিউজিক প্রোডাকশনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি। লন্ডনে পড়াশোনাকালীনই তার সঙ্গীত জীবনের মূল ভিত্তিশিলা তৈরি হয়।

সঙ্গীতযাত্রার বিপ্লব ও ‘কৃষ্ণ’:

২০০৩ সালে মুক্তি পায় হাবিবের প্রথম অ্যালবাম ‘কৃষ্ণ’। সিলেটি লোকসংগীতের আধুনিক সঙ্গীতায়োজনে তৈরি এই অ্যালবামটি বাংলা সঙ্গীত জগতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটায়। ঐতিহ্যবাহী পীর-আউলিয়া ও ফোক গানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক ও ফিউশন বিটে উপস্থাপন করে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে চলে আসেন হাবিব। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সের শ্রোতাদের কাছে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করে এই অ্যালবাম।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘মায়া’ এবং ২০০৫ সালে ‘মোজাফফর’ ও ‘শোনো’ অ্যালবাম নিয়ে আসেন তিনি। প্রতিটি অ্যালবামই বাণিজ্যিকভাবে বিশাল সাফল্য পায় এবং বাংলাদেশের অডিও বাজারে নতুন ইতিহাস তৈরি করে।

চলচ্চিত্রে সুরের জাদু:

অ্যালবাম দুনিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও অনন্য অবদান রেখেছেন হাবিব ওয়াহিদ। ২০০৫ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে প্লেব্যাকে তার অভিষেক ঘটে। এই ছবির ‘ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু’ গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘প্রজাপতি’, ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সহ বহু চলচ্চিত্রে তার সুর করা গানগুলো কালজয়ী জনপ্রিয়তা লাভ করে।

অনন্য সৃষ্টি ও একক গান:

গায়ক ও সুরকার হিসেবে উপহার দিয়েছেন অজস্র হিট গান। ‘দ্বিধা’, ‘প্রজাপতি’, ‘দুঁচ্ছায়া’, ‘ভালোবাসব ভালোবাসব রে’, ‘মন যে বলে বলে রে’, ‘ভালোবাসার পরশে’ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের ‘একলা লাগে না’, ‘ঝড়’—প্রতিটি গানেই রয়েছে তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্ন ধাঁচের মেজাজ। অ্যালবাম যুগের পর যখন ডিজিটাল মিউজিক ও সিঙ্গেলসের যুগ শুরু হলো, তখনও ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের মান ধরে রেখেছেন এই তারকা শিল্পী।

নতুন প্রতিভার বিকাশক:

হাবিব কেবল নিজের ঝুলিতে সাফল্য জমাননি, বরং একাধিক নতুন মুখকে সঙ্গীত অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হেলাল, কায়া, সুমাইয়া শিমু, শিরাজী, জুলি, ন্যান্সি এবং নিরঝরের মতো প্রতিভাবান শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে বাংলা গানকে নতুন কণ্ঠ উপহার দিয়েছেন তিনি।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা বৃষ্টি:

বিশেষ এই দিনে ভক্ত-অনুরাগী, সহকর্মী এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সঙ্গীতশিল্পীরা সামাজিক মাধ্যমে হাবিব ওয়াহিদকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন। দীর্ঘ শুভকামনা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে শ্রোতারা প্রত্যাশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে হাবিব আরও সুন্দর ও কালজয়ী গান উপহার দিয়ে বাংলা সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করে যাবেন।

পড়ুন : ৪৫ বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ জন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন