আবারও কেন লক্ষ্য প্রকৌশলী আনোয়ারুল? নেপথ্যে রেলে অসাধু চক্রের ব্যর্থতা

বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী ও অপপ্রচারকারী চক্র। মূলত দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরসহ উত্তরাঞ্চলের রেলওয়ে মালামাল সরবরাহ এবং সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গিয়েই অসাধু এই চক্রটির চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

​অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই বছর আগে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে। সেসময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যামূলক তথ্য ও দাপ্তরিক প্রমাণ তুলে ধরলে ষড়যন্ত্রটি ধরা পড়ে এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলো তাদের ভুল প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। এর পর চক্রটি নিজেদের গুটিয়ে নেয়।

​তবে দীর্ঘদিন ঘাপটি মেরে থাকার পর দুই বছর পর ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেই অপপ্রচারকারী চক্র। প্রত্যাহার হয়ে যাওয়া ও অপ্রমাণিত সেই পুরনো মিথ্যা অভিযোগগুলোকে পুঁজি করে তারা নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। যদিও অনুসন্ধানে অসত্য প্রমাণিত হওয়ায় অধিকাংশ দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই তা প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে থেকে অনৈতিক সুবিধা ও ফায়দা লুটতে না পেরে ব্যর্থ হয়েই মূলত এই কর্মকর্তাকে টার্গেট করা হয়েছে। চক্রটির মূল উদ্দেশ্য— তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব/পশ্চিম) প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, “রেলওয়েতে কর্মকর্তা সংকটের কারণে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজনে ও কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানic সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে বিভিন্ন সময় একাধিক পদের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ দাপ্তরিক বিষয়, এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা সিদ্ধান্ত ছিল না

​তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেল থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ একটি প্রভাবশালী চক্র দুই বছর আগেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উঠেপড়ে লেগেছিল। সেসময় তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিলে তাদের ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। কিন্তু দুই বছর পর আবার সেই অসত্য তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক তকমা লাগানো এবং নানা মনগড়া গল্প প্রচারের অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যার পক্ষে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানেও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সত্যতা মেলেনি

​তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা। কিন্তু কোনো সত্যতা যাচাই না করে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল থেকে দেওয়া তথ্য প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

​উল্লেখ্য, প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস/পশ্চিম) পদে দায়িত্ব পালনকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও স্থানীয় সরঞ্জাম দপ্তরের মালামাল সরবরাহসহ সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পড়ুন : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ নারী নিহত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন