শিক্ষকদের দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, তরুণদের আর জিপিএ-৫-এর পেছনে দৌড়ানোর দিন নেই। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। আজকের তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ।”

শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “দেশে শিক্ষকদের একটি অংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। এতে শিক্ষকদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি দূর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বাংলাদেশ আর ‘আই অ্যাম জিপিএ ফাইভ’-এর যুগে ফিরে যেতে চায় না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। তারা সামাজিক মর্যাদা ও সমতার জন্যই আন্দোলন করেছিলেন। ডেপুটি স্পিকার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও তরুণদের দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া তরুণদের বিতর্ক শিখতে ও গণতান্ত্রিক চর্চা বুঝতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার পরামর্শ দেন।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশকে বারবার ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, যাদের মূল লক্ষ্য তরুণদেরকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে নীতিনির্ধারণে যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।

পড়ুন : সিসিটিভি ও বডিওন ক্যামেরার বিশেষ নজরদারিতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন