নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রাজনীতির মাঠের পরিচিত মুখ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক লিটন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কোনো রাজনৈতিক সংঘাত বা বড় ধরনের অপরাধের জন্য নয়; সাধারণ মানুষের মতোই ব্যাংক ঋণের দায় মেটাতে না পারার আইনি জটিলতায় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে তাকে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সমাজের পরিচিত মুখ এভাবে হঠাৎ আইনি জটিলতায় পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে নিতান্তই সাধারণ আর্থিক লেনদেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন তালুকদার ব্যাংক থেকে নিজের প্রয়োজনে দুই লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী, ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন তিনি।
সময়ের পরিক্রমায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে তিনি সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। পাওনা আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্ট’ বা চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত এই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট জারি করেন।
পৌরশহরের নওহাল এলাকার বাসিন্দা লিটন তালুকদারকে তার নিজ এলাকা থেকেই গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে গ্রেপ্তার করে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ।
আইনের চোখে যে সবাই সমান, তার প্রমাণ মেলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনের বক্তব্যে। পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, “এনআই অ্যাক্ট অর্থাৎ চেক ডিজঅনার মামলায় লিটন তালুকদারের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজ (শুক্রবার) সকালে তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
মাত্র দুই লাখ টাকার ঋণ কীভাবে একজন রাজনীতিকের জীবনে অপ্রত্যাশিত আইনি জটিলতা ডেকে আনতে পারে, মোহনগঞ্জের এ ঘটনাটি তারই জীবন্ত দৃষ্টান্ত। এটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্যই প্রচ্ছন্ন বার্তা বহন করে- আর্থিক লেনদেন, বিশেষ করে ব্যাংকিং নিয়মের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সময়ানুবর্তিতা রক্ষা করা কতটা জরুরি।
রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, আইনি প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে যে কেউ নন, এই ঘটনাই যেন তা নতুন করে মনে করিয়ে দিলো। দিনশেষে অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা কাউকেই ছাড় দেয় না। আপাতত আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন লিটন তালুকদারের স্বজন ও স্থানীয়রা।
পড়ুন : ৫ বছর পর টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু


