মশারি টাঙিয়ে মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার দাবি, তদন্তে মেলেনি প্রমাণ

নীলফামারীর ডোমারে দুর্গাপূজামণ্ডপে মশারি টাঙিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার দাবি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপের সম্পাদক ও স্থানীয়দের দাবি, মশারি টাঙিয়ে পাহারা দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। আর সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুজে পায়নি জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গত ১১ অক্টোবর বাংলা টিভির ডিজিটাল বিভাগের অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘মণ্ডপে মণ্ডপে মশারি টাঙিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে সনাতনীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সংবাদটির তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা দাবি করেন, ঘটনাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ি বটতলী শ্যামের ডাঙ্গা পূজামণ্ডপের সম্পাদক ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে মৃৎশিল্পীরা রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে মণ্ডপের পাশের খোলা মাঠে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই দৃশ্যের ছবি ব্যবহার করে মৃৎশিল্পীদের ঘুমানোর বিষয়টিকে মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার ঘটনা হিসেবে সংবাদে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে মণ্ডপ কমিটির কারও বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তাঁরা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন। প্রকাশিত সংবাদকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই মন্ডপের পরিচালক সুশেন রায় বলেন, আমি এই বিষয়টি জানিনা। তবে পূজামণ্ডপের সম্পাদক ভবেশ চন্দ্র রায় আমাকে বিষয়টি অবগত করেন। আমাদের এখানে কোন সমস্যা নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পূজা করে আসছি, কোনও দিন কোন সমস্যা হয়নি। আমরা পুলিশকে এ বিষয়টি অবগত করেছি।

এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম চৌধুরী বলেন, সংবাদটি প্রকাশের পর সরেজমিন তদন্ত করে এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংবাদে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মী তাঁর কাছ থেকে বক্তব্য নেননি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পূজাসহ যেকোনো সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে।

অন্যদিকে, বাংলা টেলিভিশনের ডিজিটাল বিভাগের নীলফামারী প্রতিনিধি আওলাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের রয়েছে ভিন্নতা। তাই সংবাদটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও তথ্যের সমাধান হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়ুন:কক্সবাজারে ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, ৬ পর্যটকের মৃত্যু

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন