সরকারি জমি প্রভাবশালীদের নয়, পাবেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা: ডেপুটি স্পিকার

দীর্ঘদিন ধরে গুটি কয়েক মানুষের কাছে জিম্মি থাকা বাজার, আর সরকারি সম্পদ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ অট্টালিকার দিন শেষ হতে চলেছে। নতুন করে কোনো ‘মাফিয়া ডন’ বা প্রভাবশালী ‘ভাইয়ের’ হাতে সরকারি সম্পদ তুলে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন পুকুর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়।

দীর্ঘদিন ধরে নাজিরপুর বাজারে যারা কেবল ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা করে আসছিলেন, তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যবসায়ী ভাইয়েরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমি জানি। আমি সেটা অস্বীকার করব না’।

তবে সাময়িক এই ক্ষতির বিপরীতে তাদের জন্য স্থায়ী বন্দোবস্তের আশার আলো দেখিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, আগে যারা এখানে ব্যবসা করতেন তাদের অধিকাংশেরই নাম-ঠিকানার তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এখন আর ভাড়াটিয়া হিসেবে নয়, বরং প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরই নতুন করে বরাদ্দ দিয়ে তাদের মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হবে। উন্মুক্ত পরিবেশে নতুন কোনো চাঁদাবাজ বা টাকার কুমির সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

নাজিরপুর বাজারের অতীত পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাজারটিকে জিম্মি করে জনগণের সম্পদের ওপর অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়েছিল। সরকার সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় সেই বেদখল হওয়া সরকারি সম্পদ উদ্ধার করেছে।

আইনের চোখে যে সবাই সমান, সেই বার্তাটি তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রদান করেন। তিনি জানান, সরকারি জায়গায় আইনবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করে দখলদারত্ব কায়েমের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। মাত্র এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে আইন অমান্য করে কেউ যেন নতুন করে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে না পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে।

আইনের হাত যে কতটা লম্বা, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এমনকি তিনি নিজেও যদি কোনো বেআইনি কাজ করেন, তবে একদিন তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই আইনজ্ঞ ও রাজনীতিক।

ব্যক্তিগত লালসা ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য নাজিরপুরকে আর কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য কেবল বাজারের জমি উদ্ধারের ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সুষম, বৈষম্যহীন ও স্বস্তিদায়ক সমাজ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে নাজিরপুরের প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যেমন তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকারও সুনিশ্চিত হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ নিহত দুই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন