রতের সুনীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর তীরে কাশফুলের দোল আর বাতাসে শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস- প্রকৃতির অপরূপ ক্যানভাসেই আগমন ঘটে দেবী দুর্গার। ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের মায়াবী বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর নতুন পোশাকে উৎসবের আমেজ শুধু পূজামণ্ডপেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছুঁয়ে যায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। ধর্মীয় আরাধনার গণ্ডি পেরিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব তাই যুগে যুগে হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক বন্ধনের অনন্য মিলনমেলা।
বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম রূপটি এবারও ধরা পড়েছে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী জনপদ দুর্গাপুরে। উৎসবের চিরচেনা আমেজে মেতে উঠেছে দুর্গাপুর পৌরসভার পূজামণ্ডপগুলো। আর আনন্দঘন মুহূর্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার।
দুর্গাপুরের উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপুর পৌরসভার ২২টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। প্রতিটি মণ্ডপে তিনি পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান তুলে দেন। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়, সেদিকেও বিশেষ নজরদারি রাখছেন তিনি।
শারদীয় দুর্গোৎসবের দিনগুলোতে জামাল উদ্দিন মাস্টার কেবল আর্থিক সহায়তাই দেননি, ছুটে গেছেন মণ্ডপে মণ্ডপে। ঢাকের তালে তালে ভক্তদের যে উচ্ছ্বাস, তার সাথে একাত্ম হয়ে তিনি পুণ্যার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার উপস্থিতিতে উৎসবের আনন্দ যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। মণ্ডপে আগত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মুখে যেন হাসি ফোটে এবং উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত যেন সবার জন্য আনন্দময় হয়ে ওঠে। দুর্গাপুরের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেন এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আরও সুদৃঢ় হয়- এটাই ছিল তার মূল বার্তা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার দুর্গাপুরের সুপরিচিত নাম। অতীতে তিনি দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে দুইবার মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আবারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তবে কেবল ভোটের রাজনীতি নয়, বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৌরসভার ২২টি পূজামণ্ডপে তার আর্থিক অনুদান ও সরাসরি গণযোগাযোগ তার সাম্প্রতিক সামাজিক দায়বদ্ধতারই উজ্জ্বল প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুরের সম্প্রীতির ক্যানভাস যেমন আরও বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের হৃদয়ে সম্প্রীতির উষ্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ নিহত দুই


