আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন দেশটির অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তাকে ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ২৮৬ ডলার জরিমানা করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার বেশির ভাগ সময় ইতোমধ্যে পার করে ফেলায় আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের কোনো ম্যাচ মিস করতে হচ্ছে না এই তারকা ফরোয়ার্ডকে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে থাকার পর কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর বিরোধের সূত্রপাত হয়। রোনালদোর দাবি ছিল, কোচ তাকে ম্যাচে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে।
এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। একপর্যায়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
এফপিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের দিন থেকে রোনালদোর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গণনা করা হয়েছে। ফলে এরই মধ্যে ১৯ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। পরবর্তী ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হওয়ার আগেই বাকি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তাই শাস্তির কারণে পর্তুগালের আসন্ন ম্যাচগুলোতে তার অনুপস্থিত থাকার আশঙ্কা নেই।
শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোনালদোর অনুশোচনা, ফুটবলে তার অবদান এবং ক্যারিয়ারের অর্জন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজের অর্জন ও পুরস্কারের তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্তও জমা দেন এই পর্তুগিজ তারকা।
এর আগে নিজের আচরণের দায় স্বীকার করে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন রোনালদো। একই সঙ্গে নিজের আচরণের জন্য শাস্তি পাওয়া উচিত বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার এই অনুশোচনা শাস্তি নির্ধারণে বিবেচনায় এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোনালদোর সঙ্গে কোচ হোর্হে জেসুসের বিরোধের বিষয়টি সামনে এলেও জাতীয় দলে তার ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিষয়টির সমাধান হলে রোনালদোকে আবার জাতীয় দলে পাওয়ার ব্যাপারে তাদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে।
আগামী ১৪ নভেম্বর নেশনস লিগে আবারও ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। এর তিন দিন পর ওয়েলসের মাঠে খেলবে দলটি। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এসব ম্যাচে রোনালদোর অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই শাস্তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলা ও গোল করার ক্ষেত্রে পুরুষ ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড তার দখলে। তার নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুটি নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের ব্যস্ততার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছেন রোনালদো। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন তিনি। পরে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও বাড়িয়েছেন এই তারকা।
ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো এখন রোনালদোর অন্যতম বড় লক্ষ্য। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে আর মাত্র ১৯ গোল প্রয়োজন তার। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ৪২ বছরে পা দিতে যাওয়া রোনালদোর সামনে তাই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে দলীয় ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় শাস্তি পেলেও রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা অটুট রয়েছে। এখন কোচ ও খেলোয়াড়ের মধ্যকার বিরোধের সমাধান এবং মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে পর্তুগালের সমর্থকেরা।
পড়ুন:রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী
ইমি/


