যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজৈর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করেন তদন্তকারীরা।
সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্যাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রশ্নফাঁসের মামলায় সোহাগ ফকিরের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ার পরেই তাকে গ্রেফতারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১তম গ্রেডের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের এ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে ৩ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পরীক্ষা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজপথে নেমে আসেন ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয়, বাংলা কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজ এবং মতিঝিল শাপলা চত্বরসহ একাধিক কেন্দ্রের সামনে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন এবং প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুমা রানা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “এই যে লাখ লাখ স্টুডেন্ট, এদের কয়জনই বা ঢাকায় থাকে? জেলা শহর থেকে ধারদেনা করে, সারারাত জার্নি করে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঢাকায় আসে পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষা শেষ করেই আবার বাড়ির পথ ধরবে। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে শুনল প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত!”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলে বলেন: “শিক্ষার্থীদের এই শারীরিক শ্রম, আর্থিক ক্ষতি আর ভাঙা স্বপ্নের দায় কে নেবে? রাষ্ট্র কেন এখনো এই প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না? লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছেলেখেলা আর কতদিন চলবে? প্রশ্নফাঁস তো মহামারি আকার ধারণ করেছে! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিক্ষোভকারীরা জানান, দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম জানান, পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিতের খবরে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় চাকরিপ্রার্থীরা জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মোতায়েন থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার
সা/


