নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় সংগঠন। এর পরপরই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে অপসারণ না করায় তারা আবারও এই কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে শারদীয় দুর্গাপূজা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পূজা শেষে দাবি আদায় না হওয়ায় আজ ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় এই অবরোধ শুরু হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানানো হয়েছে।
নেতদের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে। সশস্ত্র সদস্যদের ভয়ে সাধারণ মানুষ ও জুমচাষিরা ঘরছাড়া হয়েছেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
অবরোধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত সকল পর্যটককে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পূর্বের অবরোধগুলোতে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং যাতায়াতকারী পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। নতুন করে অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জনজীবন ও খাদ্য সরবরাহে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু পরিবহন ও সেবা অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি, সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন।
পড়ুন : আজ থেকে ঢাকা-দাম্মাম ও জেদ্দায় ফ্লাইট চালু


