ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে স্পেনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’। বার্সেলোনার ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের তিন শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় বাংলাদেশের মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা ও মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় ১৪টি প্রতিষ্ঠান ইপিবির তত্ত্বাবধানে এবং বাকি ৪টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এছাড়া ইপিবির একটি স্টলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বিভিন্ন প্রকাশনা, জার্নাল ও নথিপত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে মেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। এ সময় ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, প্রথম সচিব (শ্রম) মাহিদ আল হাসান, বিকেএমইএর পরিচালক মো. আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান বলেন, দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও জানান, জার্মানিকে অতিক্রম করে স্পেন বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশি পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও গুণগত মানেরই প্রতিফলন।
মেলায় বাংলাদেশ, স্পেন, ইতালি, জাপান, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রদর্শকরা অংশ নিচ্ছেন। মেলায় বাংলাদেশের স্টলগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ওভেন ও নিটেড ফেব্রিক, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, সুতা এবং ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজ প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় ক্রেতাদের মাঝে দারুণ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ড, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ডিজাইনারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে নতুন ক্রয়াদেশ সংগ্রহই এই মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল লক্ষ্য। এছাড়া মেলায় বিশ্বখ্যাত ‘পেক্লার্স প্যারিস’-এর পরিচালনায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ট্রেন্ড ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যা ফ্যাশনশিল্পে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানসমূহ
এবারের মেলায় বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ডে ফ্যাশন, এ এম সি নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সারা ফ্যাশন, বেঙ্গল গ্লোরি, কনকর্ড রাইমেন্ট ওয়্যার, ইউনাইটেড ক্রিয়েশন, এ এম সি অ্যাপারেল, গ্লিমার ফ্যাশনস ডিজাইন অ্যাপারেল, জিন্স অ্যান্ড জ্যাকেট, আহাভা কম্পোজিট, এন ডব্লিউ আর এম টি, মানহা অ্যাটায়ার কম্পোজিট, গেট ওয়ার্ল্ড অ্যাটায়ার ট্রিমস (অন্যান্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানসহ)।
পড়ুন : কক্সবাজারে সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু


