পাহাড়ি নদী আর দুর্গম সীমান্তের আড়ালে চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন কৌশল ভেস্তে দিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাত-দিনের টানা পাহারায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জালে ধরা পড়ছে অবৈধভাবে নিয়ে আসা একের পর এক চোরাই চালান। এবার নেত্রকোনা সীমান্তে টানা দুই দিনের পৃথক তিন অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অলিভ অয়েল, কয়লা ও বাঁশ জব্দ করেছে বিজিবি’র ৩১ ব্যাটালিয়ন। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৩২ হাজার টাকারও বেশি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ময়মনসিংহ সেক্টর সদর দপ্তরের অধীনে থাকা নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে তাদের এই আভিযানিক সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালেও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মোহনপুর বিওপির (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেষখোলা নদী এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ১১৮৮/২-এস থেকে প্রায় তিনশো গজ ভেতরে দেশের জলসীমায় মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৫৪০ কেজি ভারতীয় কয়লা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার আটশো টাকা। উদ্ধারকৃত কয়লা পরবর্তীতে নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিলামে বিক্রি করা হয়।
একই দিন সকাল ৯টার দিকে অপর আরেক অভিযান চালায় বিজয়পুর বিওপির টহল দল। এবার চোরাকারবারিদের রুট ছিল পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী। সীমান্ত পিলার ১১৫২ এমপি থেকে আনুমানিক ছয়শো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোমেশ্বরী নদীর বুকে ভাসমান অবস্থায় ছয়শো পিস ভারতীয় বাঁশ জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা। মালিকবিহীন বাঁশের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার টাকা, যা বিজয়পুর বনবিট অফিসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে নিলাম করা হয়।
এরআগে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের নলুয়াপাড়া বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) একটি টহল দল বাদামবাড়ি নামক স্থানে ঝটিকা অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ১১৫৯ এমপি থেকে আনুমানিক তিনশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ অভিযান চলাকালে চোরাকারবারিরা গা ঢাকা দিলেও, ঘটনাস্থল থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৩৯৪ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল। জব্দকৃত অলিভ অয়েলের সিজার মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ নয় হাজার ৯২০ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পণ্যগুলো নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, দুই দিনের তিন অভিযানে এক লাখ ৩২ হাজার ৭২০ টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টা রুখে দিতে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছে বাহিনীটি।
পড়ুন:মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করবে জেলা বিএনপি: কামরুল হাসান
ইমি/


