শ্রদ্ধার কারণে গায়কিতে বদল আনেন শ্রেয়া

বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘আশিকি ২’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। সিনেমাটির গল্পের পাশাপাশি এর গানগুলোও শ্রোতাদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ‘সুন রাহা হ্যায় না তু’। শ্রদ্ধা কাপুরের ঠোঁটে এই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। তবে গানটি রেকর্ড করার সময় পরিচালক ও প্রযোজকের বিশেষ অনুরোধে তাঁকে আবারও গাইতে হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শ্রেয়া।

বিজ্ঞাপন

বিলবোর্ড ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানান, প্রথমবার গানটি নিজের গায়কির ধরন ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী গেয়েছিলেন তিনি। নিজের কণ্ঠের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন সেই পরিবেশনায়। কিন্তু পরে সিনেমার পরিচালক মোহিত সুরি ও প্রযোজক মুকেশ ভাটের কাছ থেকে ফোন পান তিনি। তাঁদের অনুরোধেই গানটি নতুন করে গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই গায়িকা।

শ্রেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচালক ও প্রযোজক তাঁকে জানান, সিনেমায় শ্রদ্ধা কাপুরের অভিনীত চরিত্রটি তখনো গান শেখেনি। সে একেবারেই নতুন এবং গানের জগতে নিজের পথচলা শুরু করছে মাত্র। তাই গানটির পরিবেশনায় পেশাদার গায়িকার পরিণত কণ্ঠের বদলে কিছুটা সরলতা থাকা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে শ্রেয়া আবারও গানটি গাইতে রাজি হন।

‘আশিকি ২’ সিনেমায় শ্রদ্ধা কাপুর অভিনয় করেছিলেন আরোহী নামের এক তরুণীর চরিত্রে। গল্পে আরোহী শুরুতে কোনো প্রতিষ্ঠিত বা প্রশিক্ষিত গায়িকা নয়। ক্লাব বা বারে গান গাইতে গিয়ে আদিত্য রায় কাপুরের অভিনীত চরিত্রের নজরে আসে সে। এরপর ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যায়।

এই গল্পের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই ‘সুন রাহা হ্যায় না তু’ গানটির পরিবেশনায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয়েছিল। শ্রেয়া ঘোষাল মনে করেছিলেন, চরিত্রটির গানের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে কণ্ঠের উপস্থাপনা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। একজন প্রতিষ্ঠিত ও প্রশিক্ষিত গায়িকার মতো নিখুঁত পরিবেশনা দিলে পর্দার চরিত্রটির শুরুর দিকের অবস্থার সঙ্গে তা পুরোপুরি মানানসই হতো না।

সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রেয়া বলেন, “আমি প্রথমে নিজের ব্যাখ্যা ও গায়কির ধরন অনুযায়ী ‘সুন রাহা হ্যায় না তু’ গেয়েছিলাম। এরপর মোহিত সুরি ও মুকেশজি আমাকে ফোন করেন। তাঁরা বলেন, ‘মেয়েটি এখনো গান শেখেনি। সে একেবারেই নতুন। তাই তুমি একবার শুনে দেখো। ইচ্ছা হলে আবার গেয়ে দিতে পারো।’ আমি রাজি হয়ে যাই।”

শ্রেয়ার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একটি সিনেমার গানে শুধু সুর ও কণ্ঠের সৌন্দর্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পর্দার চরিত্রের পরিস্থিতি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে গায়কির সামঞ্জস্য রাখাও জরুরি।

শ্রেয়া আরও জানান, সিনেমার গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর তিনি গানটি নতুন করে সহজভাবে গেয়েছিলেন। প্রথমবার রেকর্ডিংয়ের সময় পরিচালক স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে চরিত্রটির বয়স, গানের অভিজ্ঞতা এবং গল্পের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানার পর তিনি উপলব্ধি করেন, কেন পরিচালক ও প্রযোজক তাঁর কাছে দ্বিতীয়বার গানটি গাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

গানটির দ্বিতীয় পরিবেশনায় চরিত্রটির শুরুর দিকের সরলতা ফুটিয়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেন তিনি। এতে গানের আবেগ বজায় রাখার পাশাপাশি পর্দার চরিত্রটির অবস্থার সঙ্গেও কণ্ঠের উপস্থাপনা মানানসই হয়।

শ্রেয়া ঘোষাল দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গায়কির বিশেষত্ব হলো, গানের আবেগ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কণ্ঠের প্রকাশভঙ্গি বদলে নেওয়া। ‘সুন রাহা হ্যায় না তু’ গানটির ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি আরও একবার সামনে এসেছে।

সিনেমার জন্য গানটি সহজভাবে গাইলেও মঞ্চে পরিবেশনার ক্ষেত্রে শ্রেয়া নিজের পরিণত ও পরিশীলিত গায়কির ধরন ব্যবহার করেন। কনসার্টে গানটি গাওয়ার সময় তাঁর কণ্ঠের পরিচিত বৈশিষ্ট্য, আবেগ এবং গায়কির দক্ষতা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

তবে সিনেমার গান রেকর্ড করার সময় শিল্পীকে সব ক্ষেত্রে নিজের পরিচিত গায়কির ধরন অনুসরণ করলে চলে না বলে মনে করেন শ্রেয়া। কারণ, সিনেমার গান একটি নির্দিষ্ট চরিত্র, গল্প এবং পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত থাকে। সেখানে গায়কের ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্রটির অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাও ফুটিয়ে তোলা প্রয়োজন।

তাঁর মতে, কোনো সিনেমার গান গাওয়ার আগে চরিত্রটি কে, তার বয়স কত এবং গানের দক্ষতা কেমন—এসব বিষয় বুঝে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রটি যদি নতুন গায়ক হয়, তাহলে তার কণ্ঠে সেই অনভিজ্ঞতা ও সরলতার ছাপ থাকা দরকার। আবার অভিজ্ঞ শিল্পীর চরিত্র হলে গায়কির প্রকাশভঙ্গিও ভিন্ন হতে পারে।

২০১৩ সালে মুক্তির পর ‘আশিকি ২’ সিনেমার গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘সুন রাহা হ্যায় না তু’ গানটিও শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। গানটির আবেগঘন সুর ও শ্রেয়ার কণ্ঠের পরিবেশনা এটিকে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছে।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে গানটি তৈরির পেছনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রেয়া দেখিয়েছেন, একটি জনপ্রিয় গানের সফলতার পেছনে শুধু কণ্ঠশিল্পীর দক্ষতা নয়, পরিচালকের ভাবনা এবং চরিত্রের সঙ্গে গানের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

‘সুন রাহা হ্যায় না তু’ গানটি দ্বিতীয়বার গাওয়ার অভিজ্ঞতা তাই শ্রেয়ার কাছে কেবল একটি রেকর্ডিংয়ের পরিবর্তন ছিল না; বরং সিনেমার চরিত্রকে কণ্ঠের মাধ্যমে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পর্দায় একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সংগীতশিল্পী ও নির্মাতাদের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া কতটা প্রয়োজন।

পড়ুন:হলিউড তারকা টম স্কেয়ারিটের জীবনাবসান, বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন