গাইবান্ধায় এক মাদ্রাসার কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলী ডাক্তারকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।
রোববার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানাধীন ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার শ্যামলী ট্রাভেলস বাস কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হাছান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমী মাদ্রাসার’ প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ওই কিশোরীকে মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে গেলেও প্রতি মাসে গাইবান্ধায় এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন এবং মাদ্রাসার খরচ পরিশোধ করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার পরিচালক হাছান আলী ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কিশোরী তার বাবা-মাকে জানালে তারা অভিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সে সময় তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার ফজরের নামাজের পর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মাদ্রাসার পরিচালক ওই কিশোরীকে মাদ্রাসাসংলগ্ন নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে প্রবেশের পর তার মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে কৌশলে মুঠোফোনের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী। গত ৩১ আগস্ট তার বাবা-মা গাইবান্ধায় এসে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা (নম্বর: ২২) দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-৩, এসআরবি-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে পাকড়াও করে।
গ্রেফতারের পর আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন : শ্রীপুরের সড়ক দুর্ঘটনায় পোশাক শ্রমিক নিহত


