জ্বীন সেজে ভয় দেখিয়ে ১১ লাখ টাকার সোনা লুট, আটক ৪

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার কথা বলে এক মায়ের কাছ থেকে কৌশলে প্রায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী ফোন করে ভুক্তভোগীকে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে ‘জিন্নী হুজুর’ সুস্থ করতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারী প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করেন। পরে তাঁকে বসতঘরের পেছনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে যেতে বলা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার সেখানে রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর গিয়ে সেগুলো আর পাননি।

পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে আরও ২ ভরি স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলেন। এবার এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। ছেলেকে সুস্থ করার প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আরও স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়। পরে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে তিনি সেগুলোও পাননি। এভাবে প্রতারক চক্রটি তাঁর কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্তে নামে বড়লেখা থানা পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস ও এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল ১ নভেম্বর বড়লেখা থানার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের সোনাহর আলীর স্ত্রী করবুল নেছা (৬০) এবং হিনাইনগর গ্রামের মৃত সোনাহর আলীর ছেলে তাজ উদ্দিন (৪৫)।

পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের মৃত জিতেন্দ্র বৈদ্যের ছেলে বিজয় বৈদ্য (৪৮) এবং হরিরামপুর গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে রিপন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়ার থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন এবং পরিমাপ করে মোট ওজন ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি।

পুলিশ জানায়,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান বলেন, বড়লেখা থানা পুলিশ অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নতুন কুপে গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রত্যাশা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন