ফ্রান্সে স্কুল ছুটি শেষে আবার শুরু বিক্ষোভ

ইউরোপের তিন দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরলেও অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অন্যদিকে জার্মানিতে তরুণদের বিক্ষোভের পর সহিংসতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অবরোধ ও বিক্ষোভের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সোমবার ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ করা হয়েছে। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্সইনফোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্যারিস, মার্সেই ও রেন শহরের কয়েকটি স্কুল অবরোধের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে দেশজুড়ে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধের ঘটনা ঘটেছিল।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে বর্তমানে অবরোধ বা অবরোধের চেষ্টা সীমিত পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবায় ব্যয় কমানোর প্রতিবাদ যুক্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠীও এতে অংশ নেয়। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দাঙ্গা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বৈষম্যমূলক ভর্তি ব্যবস্থা বাতিলও আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি।

জার্মানিতে তরুণদের বিক্ষোভের পর সহিংসতার জন্য ‘অভিবাসী দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট।

গত সোমবার ক্ষমতাসীন জোটের শরিক সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) নেতা এবং বিরোধী বামপন্থি দলের প্রতিনিধিরা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও এসপিডি নেতা বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, সব অভিবাসীকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, সহিংসতার সঙ্গে অপরাধী ও উগ্রপন্থিরা জড়িত। বিরোধী দলের নেতা ক্লারা বুয়েঙ্গারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসহনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বর্ণবাদী মনোভাব উসকে দিতে পারে।

শনিবার জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে ‘জেন জি রেগেল্ট’ আন্দোলনের উদ্যোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ পুনরায় চালুর উদ্যোগসহ বিভিন্ন সরকারি নীতির প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে শনিবার রাতে কয়েক শ মানুষের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্র, বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারে আগুন দেয়। একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া গণপরিবহনের একটি স্টপেজ এবং কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

ইউরোপের এই তিন দেশের ঘটনাগুলোতে শিক্ষার অধিকার, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি নীতি এবং সামাজিক অসন্তোষের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

পড়ুন:ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইমি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন