অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ফলে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আর দেখা যাবে না বিধ্বংসী ব্যাটিং ও কার্যকর বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ম্যাক্সওয়েলকে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে মাঠে নামবেন এই অলরাউন্ডার। দলটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত।
গত বছর জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার দরজা খোলা রেখেছিলেন তিনি। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন। তবে টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলটিকে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ওমানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকল দেশের জার্সিতে ম্যাক্সওয়েলের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ম্যাচটিতে বল হাতে দুটি উইকেট নিলেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি।
নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে কথা বলেছেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল। সেসব আলোচনা ছিল খোলামেলা এবং তাঁর ওপর অবসরের বিষয়ে কোনো চাপ ছিল না।
ম্যাক্সওয়েল বলেন, বিশ্বকাপের আগে ও পরে দলের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছিল। সামনে কয়েকটি সিরিজ থাকায় দল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছিল। বাংলাদেশ সফরেও তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা ভালো পারফরম্যান্স করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষবার নিজের মাঠে খেলার একটি ক্ষীণ আশা ছিল তাঁর। বিশেষ করে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছা ছিল এই তারকার।
এ প্রসঙ্গে ম্যাক্সওয়েল বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো এমসিজিতে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। তবে বর্তমান দল যেভাবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, সেটি তিনি বুঝতে পারছেন এবং সমর্থনও করছেন।
২০২৮ সালের অলিম্পিক সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া দল আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। এ সময় তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ম্যাক্সওয়েল।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ম্যাক্সওয়েল। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০১ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৪৯ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ৯৯০ রান করেছেন তিনি। রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি ও ২৩টি অর্ধশতক। তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ২০১ রান। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৭৭টি উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৩০ ম্যাচ খেলে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। এই সংস্করণে তাঁর সেঞ্চুরি পাঁচটি, যা রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড। বল হাতেও ছিলেন কার্যকর; শিকার করেছেন ৫১টি উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্য খুব বেশি সময় খেলেননি এই অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাতটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে রাঁচি টেস্টে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। টেস্টে তাঁর মোট সংগ্রহ ৩৩৯ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে ম্যাক্সওয়েলের। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ওই আসরের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই।
বিধ্বংসী ব্যাটিং, প্রয়োজনের সময় উইকেট নেওয়ার দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ হলেও পুরোপুরি ক্রিকেট থেকে দূরে যাচ্ছেন না ম্যাক্সওয়েল। মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ভক্তরা তাঁকে আরও কিছুদিন মাঠে দেখতে পাবেন।
পড়ুন:অ্যাসিস্টের পর জয়সূচক গোল, মেসির জাদুতে জয় মায়ামির
ইমি/


