ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। এমনকি নিজের ব্যালন ডি’অর ট্রফির বিনিময়ে হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে চান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
গত সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার হাতে তুলে নেন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
তবে এই অর্জনের পরও তাঁর মনে রয়েছে একটি বড় অপূর্ণতা। ক্লাব ক্যারিয়ারে এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে পারেননি কেইন। তাই ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান বায়ার্ন তারকা।
কেইন বলেন, ‘আমরা দলীয় ট্রফি জেতার জন্যই ফুটবল খেলি। এই খেলার দলগত দিকটি সত্যিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্যালন ডি’অর জয়ের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহের ব্যালন ডি’অর আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অনুভূতি। তবে দলের সঙ্গে মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করা এবং ক্লাবের হয়ে উদ্যাপন করার আনন্দ আলাদা। বায়ার্নের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারলে সেটি হবে অসাধারণ অনুভূতি।’
কেইনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্যালন ডি’অর ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হলে কোনটি নেবেন তিনি। জবাবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগকেই বেছে নেবেন। তবে একই সঙ্গে দুটি শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেইন বলেন, ‘আমি চ্যাম্পিয়নস লিগ বেছে নেব। তবে আমার দুটোই জেতার সুযোগ আছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’
তিনি আরও বলেন, ব্যালন ডি’অর নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি অর্জন এবং এটি তাঁকে আরও বড় পরিসরে পরিচিত করেছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলতে চান তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা জয়ের আবেগঘন মুহূর্ত উপভোগ করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন কেইন। এর আগে মাইকেল ওয়েন, স্যার স্ট্যানলি ম্যাথুস, স্যার ববি চার্লটন ও কেভিন কিগান এই পুরস্কার জিতেছিলেন। তাঁদের পর পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মান পেলেন বায়ার্নের তারকা।
১৯৮১ সালে কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগার পর বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করেছেন কেইন।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে মোট ৭৩টি গোল করেছিলেন এই স্ট্রাইকার। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতাই তাঁকে ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছিল।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর বায়ার্ন মিউনিখে কেইনের অর্জন উদ্যাপন করা হয়। গত শনিবার বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ডার ক্লাসিকারের আগে সতীর্থদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি। তবে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় প্রত্যাশিত জয় পায়নি বায়ার্ন। ম্যাচে পেনাল্টি মিস করায় ব্যক্তিগতভাবেও হতাশ হতে হয় কেইনকে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যালন ডি’অর উদ্যাপনের পর থেকে সময়টা ভালো-মন্দ মিলিয়ে কাটছে। এই পুরস্কার তাঁর নিজের পাশাপাশি ক্লাবের জন্যও অনেক বড় সম্মানের। তবে দলকে কয়েকটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
কেইনের ভাষায়, কঠিন সময়গুলো দলকে আরও কাছাকাছি এনেছে। তাঁরা প্রতিটি মুহূর্তের জন্য লড়াই করছেন।
ব্যক্তিগত অর্জনের শীর্ষে পৌঁছেও কেইনের লক্ষ্য এখন দলীয় সাফল্য। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলে তাঁর ক্যারিয়ারের অপূর্ণতাও ঘুচবে। আর সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যালন ডি’অরের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ইউরোপসেরার ট্রফি।
পড়ুন:অ্যাসিস্টের পর জয়সূচক গোল, মেসির জাদুতে জয় মায়ামির
ইমি/


