বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যালোচনার সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এ বিষয়ে সংস্থাটির কাউন্সিল সদস্যদের চিঠি পাঠিয়েছেন মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার চাপ এবং ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সংস্থাটির এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার কাউন্সিল সদস্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে নথি পর্যালোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আগ্রহী সদস্যরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে গিয়ে এসব নথি দেখতে পারবেন। তবে এ সুযোগ কেবল ফিফা কাউন্সিল সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশ এবং একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ফিফাকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল উয়েফা। সেই সময়সীমার শেষ দিনেই ফিফার পক্ষ থেকে নথি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ সামনে এল।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা সামনে আনেন। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে পরিচিত এ প্রকল্প ঘিরে ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।
পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনসহ (এএফসি) বিভিন্ন আঞ্চলিক কনফেডারেশন এবং জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন আপত্তি জানায়। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে ফিফার এ উদ্যোগের স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিরোধিতার মুখে প্রস্তাব প্রকাশের মাত্র চার দিনের মাথায় তা বাতিলের ঘোষণা দেন ইনফান্তিনো। তবে প্রকল্পটি ঘিরে বিতর্ক থামেনি। বরং ফিফার নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হয়। একপর্যায়ে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে।
এফএফই প্রকল্প ছাড়াও ফিফা পিস প্রাইজ এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা। গত মাসে ফিফার কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব বিষয়ে শতাধিক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিল ইউরোপীয় সংস্থাটি।
তবে ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এতগুলো প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেওয়া কঠিন। সংস্থাটি বর্তমানে আজারবাইজানের বাকুতে নতুন যুব বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি এবং আগামী ২৩ নভেম্বর নারী বিশ্বকাপের ২০৩১ ও ২০৩৫ আসরের আয়োজক নির্ধারণে বিশেষ কংগ্রেস আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কিছু আইনি কার্যক্রমের কারণে কয়েকটি বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, যথাসময়ে কাউন্সিল সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।
এদিকে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এতে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রার্থিতার পক্ষে এশীয় ফুটবল প্রশাসনের সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইনফান্তিনোর। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
এফএফই প্রকল্পের নথি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিফার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে শুধু কাউন্সিল সদস্যদের নথি দেখার সুযোগ দেওয়া হলেও উয়েফাসহ অন্যান্য ফুটবল সংস্থার প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব কবে দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ফিফার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন:কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির
ইমি/


