দেশের হয়ে ভারোত্তোলনে একাধিক স্বর্ণপদক জিতে সুনাম অর্জন করেছেন আশরাফুল ইসলাম। অথচ নিজের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি। প্রতিবেশী মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাড়ির মূল প্রবেশপথ কংক্রিটের প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই ক্রীড়াবিদ। এতে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের।
অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমির পরিচয় হলো,গাংনী মৌজা, খতিয়ান নম্বর ৩১০১ এবং আরএস দাগ নম্বর ৪৯৬৫।
আশরাফুল ইসলাম জানান, ১৯৯৮ সালে মহিবুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি জমি কেনেন। সে সময় বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য দুই ফুট প্রশস্ত রাস্তা ছিল বলে দাবি তাঁর। পরবর্তী সময়ে তিনি আনসার ব্যাটালিয়নে কর্মরত অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতেন। এ সুযোগে প্রতিবেশী মহিবুল ইসলাম বাড়ির মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের হয়ে ভারোত্তোলনে অংশ নিয়ে একাধিক স্বর্ণপদক অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অথচ আজ নিজের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশপথ কংক্রিটের প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি। আনসার ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকায় নিজের জমির হিস্যা বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মহিবুল ইসলাম বলেন, শরিকের জমি তিনি সে সময় বিক্রি করেছিলেন। পরে তাঁর বোনেরা জমি দখল করে নেওয়ায় রাস্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে হিয়ারিং বন্ড দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিবুল ইসলাম সেটি দখলে রেখেছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। শুধু আশরাফুল ইসলাম নন, আশপাশের আরও কয়েকজন জমির মালিক যাতায়াতের সমস্যায় পড়ছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও ঘরের রং পরিবর্তনসহ বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জমির কাগজপত্র ও রাস্তার বৈধতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের যাতায়াতের পথ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাসুদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সমাধানে আসা যাবে।
স্বর্ণপদকজয়ী এই ক্রীড়াবিদের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
পড়ুন:দুই দশকে ১৯ মামলা: দুর্গাপুরে শুটার শামীমের ভাই বদি গ্রেফতার
ইমি/


